বৃষ্টি উপেক্ষা করে টানা ছুটিতে মৌলভীবাজারে পর্যটকের ঢল

 

সাইফুল ইসলাম,মৌলভীবাজার
বৃষ্টি উপক্ষো করে পর্যটনখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার দর্শনীয় বিভিন্ন স্পটে টানা কয়েকদিনের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমাচ্ছেন।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকদিন ধরে জেলার এসব আগমন ঘটছে পর্যটকদের। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে হয়ে উঠেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেক,মাধবকুন্ডে জলপ্রপাতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় হোটেল-মোটেল-কটেজের কক্ষগুলো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে অনেকটাই। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরম আতিথেয়তায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, বছরে ঈদ-কোরবানি, পূজা-পার্বন, বড়দিন, ইংরেজি নববর্ষ ও বাংলা নববর্ষসহ ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি প্রকৃতি অপ্রেমী মানুষের ভিড় জমে উঠে জেলার এসব পর্যটন স্পটে। টানা ছুটি পেয়ে শুক্রবার থেকেই লাউয়াছড়া উদ্যানে পর্যটকদের সমাগম ঘটতে থাকে, যা দিনে দিনে বাড়ছে। এরইমধ্যে ফিনলে চা বাগান, মাধবপুর লেক,মাধবকুন্ড জলপ্রপাত,হাকালুকি হাওর, বাইক্কাবিল হাইল হাওর,লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া পান পুঞ্জি, লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কসহ বিভিন্ন স্পটে পর্যটকদের ভিড়ে ফিরে পেয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। আবার পর্যটকের হাল্লা চিৎকারের কারণে বন্যপ্রাণীর প্রভাব পড়ছে।
আলতা-বানু ছবির অভিনেত্রী ফারজানা রিক্তা বলেন,‘লাউয়াছড়া বনে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। এসব প্রাণী দেখতে লাউয়াছড়া আসা। তিনি আরও বলেন,এর আগেও অনেকবার শুটিং করে গেছি,এক কথায় বলা যেতে পারে ‘অপূর্ব’।
ট্যুর অপারেটর রিজভী বলেন, টানা কয়েকদিনের ছুটি থাকায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গরমকে উপেক্ষা করে বেশ ভালোই পর্যটক রয়েছে লাউয়াছড়ায়। তবে দুইদিন বৃষ্টির কারণে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। কেউ একা, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে আবার কেউ পছন্দের মানুষকে নিয়ে উপভোগ করছেন নৈসর্গিক সৌন্দর্য। এতে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সহায়তা ও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা আরিফ ও তার স্ত্রী বলেন, ঈদ-কোরবানিসহ উৎসবের বন্ধে স্বজনদের কাছে ছাড়া কোথাও যাওয়া যায় না। তবে এবার অপ্রত্যাশিত ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানো চিন্তা মাথায় চাপে। তাই সবাইকে নিয়ে লাউয়াছড়া এসেছি। গত দু’দিনে বেশ কিছু জায়গা ঘুরেছি। এতে বাচ্চারা বেশ আনন্দ পাচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা প্রভাব পড়ছে,তারপরও ভাল লাগছে।’
টাঙ্গাইল থেকে আসা কলেজছাত্র রফিকুল ইসলাম বলেন, ৮-১০ জন বন্ধু নিয়ে লাউয়াছড়া বেড়াতে এসেছি। নানান জায়গায় ঘুরছি, বেশ মজা পাচ্ছি। ছুটিকে ঘিরে লাউয়াছড়া ও মাধবপুর লেকে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু এবারেও হোটেলের ভাড়া, খাবারের দাম, অভ্যন্তরীণ পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে অনেক।
দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা ঘুরে দেখা নিয়ে পর্যটকদের উৎসাহের কমতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় যানবাহন চালক খুরশেদ আলমসহ অনেকে।
টানা ছুটির দিনগুলো জেলার বিভিন্ন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন লাউয়াছড়া ইকো কটেজের ব্যবস্থাপক রুহিন আহমদ। তিনি বলেন,কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল দর্শনীয় স্থান পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। এছাড়াও লেমন গার্ডেন ও গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ হোটেল,টি রিসোর্ট ও লিচু বাড়ী ইকো কটেজ,হীড বাংলাদেশ।

সাই/২০১৮

শেয়ার করুন