বিশেষ ক্ষমতা আইনের অস্তিত্বহীন ১৬ ধারায় মামলা নয়,,,হাইকোর্টের নির্দেশ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দেশের থানাগুলোতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অস্তিত্বহীন ১৬ ধারায় নতুন করে মামলা দায়ের না করতে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ওই ধারায় হওয়া এক মামলায় দুই আসামির আগাম জামিন আবেদনের শুনানিতে এ নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতে জামিন আবেদনকারী দুজনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মন্টু চন্দ্র ঘোষ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ। শুনানি নিয়ে আদালত মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানায় করা ওই মামলায় সাজেদুল আলম স্বাধীন ও মো. হাবিবুর রহমান লালুকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন।
পরে ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ  বলেন, ১৯৯১ সালে এক আইন দ্বারা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারা বিলুপ্ত করা হয়। তবে ভুলবশত দেশের বিভিন্ন থানায় এখনো ১৬ (২) ধারায় মামলা হচ্ছে। যেহেতু ১৬ ধারার এখন কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই ওই ধারায় মামলা করা আইনসম্মত নয়। দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (২) ধারায় মামলা যাতে না করা হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (১) বলা ছিল, কোনো ব্যক্তি ক্ষতিকর কোনো কাজ করতে পারবে না। ১৬ (২) ধারায় ছিল কোনো ব্যক্তি ক্ষতিকর কোনো কাজ করলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ১৯৯০ সালে এইচ এম এরশাদের পতনের পর তখনকার সরকারপ্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ একটি অধ্যাদেশ দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা বাতিল করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদে অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়ে ওই আইনের সংশোধনী পাস করা হয়। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক’ কাজ থেকে বিরত রাখার বিষয় তুলে ধরে ওই আইনের ১৬ (১) ও ১৬ (২) ধারা সংযোজন করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ওই অধ্যাদেশসহ ১২২টি অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাসের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তবে ১৬ ধারা সংযোজনের বিষয়টি সংসদের অনুমোদন পায়নি। ফলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা বাতিল অবস্থায় থেকে যায়।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (২) ও ২৫ (ঘ) ধারায় ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৫ মে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় সিঙ্গাইরের বাসিন্দা সাজেদুল আলম ও হাবিবুর রহমান আজ হাইকোর্টে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আগাম জামিনের আবেদন জানান।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের একটি অংশ ১৫ হাজার টাকার ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে বিজিএমইএ ৫৫টি কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়। পরে ১৯ ডিসেম্বর ‘ষড়যন্ত্র’ বা ‘অপরাধ সংঘটনের চক্রান্তের’ অভিযোগ এনে আশুলিয়ার পুলিশ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত ১৬ (২) ধারায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। ওই ঘটনায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন তাঁদের অঙ্গসংগঠন গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল থানার সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জীবনকে গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল দেন। রুলে গ্রেপ্তারের আদেশকে কেন আইনি এখতিয়ারবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

শেয়ার করুন