লাঠিচার্জ করতে গিয়ে র‌্যাগিংয়ের শিকার এডিসি

 

সাইফুল ইসলাম

  • লাঠিচার্জ করে রাস্তা থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরাতে গিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ওযারি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নূরুল আমিন। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি নিজেই শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংয়ের শিকার হলেন। শিক্ষার্থীরা তাকে গান গাইতে বাধ্য করে। শিক্ষার্থীদের কথামতো এডিসি নূরুল আমিন গাইলেন—‘গ্রামের নওজোয়ান, হিন্দু মুসলমান, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।’ বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাহাত অন্তু নামের একজনের ফেসবুক ওয়ালে এই ভিডিও দেখা যায়।
  • রাহাত অন্তু তার ওয়ালে লিখেছেন, ‘উনি আমাদের লাঠিচার্জ করতে এসেছিলেন। অতঃপর র‌্যাগিংয়ে পড়ে গেলেন, গান গাইতে বাধ্য হলেন। সারা জীবন তো সাধারণ মানুষকে র‌্যাগ দিলেন, আজ না হয় আমরা দিলাম।’ এরপর ভিডিওটি আপলোড করা হয় তার ফেসবুক ওয়ালে।
  • এ ব্যাপারে এডিসি নূরুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছে, তারা অনেক ছোট। তারা অনেক কিছুই বোঝে না। তাছাড়া, গুলি করে ও মাইর দিয়ে কোনও আন্দোলন দমানো যায় না। তাই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক করে তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের আনন্দ দিতেই গান গেয়েছি।’ লাঠিচার্জ করতে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলেও তিনি জানান।
  • প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‌্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
  • নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।
    এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
  • এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। পাঁচদিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। বুধবার (১ আগস্ট) বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার কথা জানানো হয়।
শেয়ার করুন