জগন্নাথপুরে নাশকতা মামলার আসামী আরজান আলী পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন!

 

বিশেষ প্রতিনিধি.
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথ পুর উপজেলার কেশবপুর এলাকায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীর মধ্যে
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ও সিএনজি গাড়ী পুড়ানোর জেরে মো.আরজান আলীকে (৩৮) থানা পুলিশ রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মিথ্যা নাশকতা মামলা আসামী করা হয়েছে। শুধু তাই নয় একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এপর্যন্ত তার বিরুদ্ধে থানায় দায়েরকৃত তিনটি ফৌজধারী মামলার আসামী করা হয়েছে।
গত ১৫ আগষ্ট ২০১৮ইং তারিখে উপজেলার রানীগঞ্জ  বাস স্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর মধ্যে দিনদুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
থানা পুলিশ জানায়, গত ১৫ আগষ্ট দিনদুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ  বাস স্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে একটি সিএনজি গাড়ী পুড়িয়ে দেয়া হয় কে-বা কারা। এসময় নেতাকর্মীকে ছত্রভঙ্গ করতে থানার ১৫জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়।
এঘটনায় জগন্নাথপুর থানার তদন্ত ওসি সাইফুল আলম বাদি হয়ে বিশেষ ক্ষমতায় আইনে ২৫ জন আসামী করে মামলা রুজু করেন । ওই মামলায় মো. আরজান আলীকে ২নং আসামী করা হয়।
মামলা রুজুর পর পর মিথ্যা মামলায় বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় করেছে পুলিশ। মিথ্যা মামলায় অনেক নেতা-কর্মী জেল-হাজতের ঘানি টানছেন। অনেকে গ্রেফতার এড়াতে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পলাতক জীবন যাপন করছে। এ সকল মিথ্যা মামলার আসামীদের আটক করতে পুলিশ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাড়ি-বাড়ি চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
প্রসঙ্গত: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় কেশবপুর এলাকায় আব্দুর রহিম (আবড়া) ছেলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো.বসর মিয়ার নেতৃত্বে তার সংঘবদ্ধ বাহিনী নিয়ে তার একই এলাকার মৃত রোশমত উল্ল্যার ছেলে মো.আরজান আলী’র বাড়িতে হামলা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্নক জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
 আরজান আলী মো.বসর মিয়া পক্ষে একটি মিথ্যার মামলার স্বাক্ষী প্রদান না করায়  তাকে বিভিন্নভাবে একাধিক মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করিতেছে।
গত ২০শে জুন ২০১৬ সালে রাত দুইটার দিকে উপজেলার কেশবপুর গ্রামে নিজ বসত বাড়ীতে মো.বসর মিয়ার নেতৃত্বে  সন্ত্রাসীবাহিনীরা তার উপর হামলা করে ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কেশবপুর এলাকায় আব্দুর রহিম (আবড়া) ছেলে কুখ্যাত সন্ত্রাসী মো.বসর মিয়ার একটি মামলায় আরজান আলী স্বাক্ষী না দেওয়ায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে  । তারই জের ধরে মো.বসর মিয়া  নেতৃত্বে তার  সংঘবদ্ধ বাহিনী নিয়ে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র রাম-দা দিয়ে এলোপাতারিভাবে মারধর করে এবং কুঁপিয়ে ডান হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলে। এসময় তার চিৎকারে আশ-পাশে তাকে তার স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাকেও লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকে এক পর্যায়ে আরজানের স্ত্রীর দুইটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। এবং চার মাসের গর্ভের বাচ্চা মারা যায়।
এঘটনায় জগন্নাথ পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণে হত্যা করবে হুমকী দেয়। অবশেষে আরজান আলীর তার জান-মাল রক্ষার্থে তিনি এখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সর্বশেষ তিনি আদালতে মামলা করতে গেলেও সন্ত্রাসীরা হুমকী দেয়।
 এদিকে ২০১৬ সালে ১২ ডিসেম্ব মো. হিরণ মিয়া নামে এক ব্যক্তি জগন্নাথপুর  মাছের খামারে রাতের বেলায় কে-বা কারা তাকে খুন করে। এ ঘটনার পর পর নিহতের ভাই বাদি হয়ে জগন্নাথপুর থানায় ৪জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা রুজু করে। ওই মামলায় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী মো. বসর মিয়ার ইন্ধনে মো.আরজান আলীকে হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামী করা হয়।
থানা পুলিশ জানিয়েছেন,হত্যা মামলার প্রত্যেক আসামীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আরজান আলী সন্ত্রাসী ও পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে তিনি বেড়াচ্ছেন।
শেয়ার করুন