মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছেন

 

সাইফুল ইসলাম,
মৌলভীবাজার চারটি আসনে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৯জন বিভিন্ন দলের প্রার্থী। এসব প্রার্থীর মধ্যে সোমবার প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো.তোফায়েল ইসলাম।
প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরাই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করেন প্রচারণা। বরাদ্দ পেয়েই বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানিয়েছেন তারা।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজার ৪,শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনের সাংসদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি বিয়ে অনুষ্ঠানে যোগদান করে তার প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আসকির মিয়া ওসাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
তবে এ আসনে আব্দুস শহীদের প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষ প্রার্থী বিএনপির হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী হাজী মুজিব তিনিও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী নেছার আহমদ নৌকা প্রতীকের বরাদ্দের পর মৌলভীবাজার শহরে বিভিন্ন এলাকায় নৌকা মার্কার প্রচারনা শুরু করেছেন। গনসংযোগে নৌকা মার্কার প্রচারনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র ফজলুর রহমান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. রাধা পদ দেব সজল, জেলা যুবলীগের সভাপতি নাহিদ আহমদ, সাধারন সম্পাদক রেজাউল রহমান সুমন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধরী আমিন, সহ-সভাপতি শেখ সামাদ,সহ সভাপতি হাসান আহমেদ তারেক, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম,সাংগঠনিক সম্পাদক রবিন জেলা কৃষকলীগের সভাপতি জমসেদ মিয়া, সাধারন সম্পাদক শাহিন আহমদ, সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সাধারন সম্পাদক রাব্বি, ১১নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ রুমেল আহমদ।

এআসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি এম নাসের রহমান। তিনি ধানের শীষের প্রতীক পেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নির্বাচনী প্রচারণাকালে জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মৌলভী ওয়ালী সিদ্দিকি, জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি, সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন, জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আব্দুল মুকিত, জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি আশিক মোশাররফ, জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি মিজানুর রহমান,জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. শিউলি আক্তার,জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক মো. হেলু মিয়া,জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক বকশী মিছবাউর রহমান, জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র সদস্য, পৌর কাউন্সিলর আলহাজ্ব আয়াছ আহমদ, জেলা বিএনপি নেতা মতিন বক্স, অ্যাড. আব্দুল মতিন চৌধুরী,অ্যাড. মামুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান মজনু জেলা বিএনপি নেতা অ্যাড সৈয়দ নেপুর আলী, অ্যাড. বকশী জুবায়ের আহমদ পৌর বিএনপি নেতা মনোয়ার আহমদ এছাড়াও বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) : বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামীলীগ মনোনীত বর্তমান সাংসদ ও সরকার দলীয় হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন নৌকার প্রতীক পেয়ে নিজ নির্বাচনী এলাকার পুর্বজুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা তজমুল আলী সাহেবের বাড়ীতেসোমবার রাতে বেলা নৌকা মার্কার সমর্থনে উঠান বৈঠকে ও গ্রামে গ্রামে পথসভা শুরু করেছেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতৃবৃন্দ। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শিল্পপতি নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু তিনিও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) : বিএনপির নেতৃত্বাধিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ ধানের শীষ প্রতীক গনসংযোগ ও জনসভা করে যাচ্ছেন।
এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকার প্রার্থী আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক দল এম এম শাহীন নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
এছাড়া লিফলেট বিতরণ করতেও দেখা যায় প্রার্থীদের। প্রার্থীরা পূর্বে থেকেই প্রচারণার জন্য মাইকের ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। ফলে প্রতীক বরাদ্দের পর নৌকা আর ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়ার মাইকিংয়ে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা।
মৌলভীবাজার কোর্ট রোডের চা স্টলের মালিক রফিক মিয়া বলেন, আমরা আশা করি এবারের নির্বাচনে কোন ধরনের হানাহানি,মারামারি হবে না। নির্বাচন হোক সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ।
মৌলভীবাজার মানবাধিকার কর্মী অ্যাড শাখায়াত হোসাইন বলেন, ‘আমাদের প্রথম দাবিই হচ্ছে মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা। শিক্ষা ক্ষেত্রে মৌলভীবাজার জেলা পিঁছিয়ে রয়েছে সেটাকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। মৌলভীবাজারের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করলেই হবে না, বরং নির্বাচিত হয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাই হচ্ছে মৌলভীবাজারবাসীর সকল ভোটার, নারী, শিশু ও সর্বস্তরের জনতার দাবি।’

মৌলভীবাজার সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলিম উদ্দিন হালিম বলেন, মৌলভীবাজারের ২৫ লাখ মানুষ বছরের পর বছর একটি মেডিকেল কলেজের দাবি জানিয়ে আসছে। দেশ-বিদেশে সভা সেমিনার করছে। বর্তমান সরকারের ঘোষণা ছিল প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ হবে, কিন্তু তার কোনো বাস্তবায়ন মৌলভীবাজারবাসী দেখিনি। তাই আমরা চাই আর কোন মেডিকেল কলেজ হলে সেটি মৌলভীবাজারেই হবে।

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। মৌলভীবাজারে সকল সময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের অধিকারে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মৌলভীবাজার জেলা সাধরাণ সম্পাদক জহর লাল দত্ত বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আনন্দের কোন বাতাস লাগেনি। নির্বাচন নিয়ে সাধরাণ মানুষের মধ্যে কোন চিন্তা নেই। এমনকি তাদের মধ্যে কোন উৎসব নেই।’
তিনি আরোও বলেন, ‘জনগণের মধ্যে আশঙ্কা বিরাজ করছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা। জনগণ বলছে বিএনপি নির্বাচনে কতটুকু টিকে থাকবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সেটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে ভোটারদের মধ্যে।’
প্রসঙ্গত: মৌলভীবাজার জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৭১ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৯৫ জন ও মহিলা ভোটার ৬ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮৭৬ জন।

 

শেয়ার করুন