চা বাগানে চা শ্রমিকের মাঝে নির্বাচনে নৌকার উৎসব ও আমেজ

 

বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভুমি চায়ের দেশ মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ নির্বাচনী আসন নৌকার উৎসব আমেজ।
যেদিকে যতদুর চোঁখ যায়, সেদিকে শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ। আঁকাবাঁকা চলে গেছে মেঠোপথ। পথের ধারে কোথাও সারি সারি মাটির ঘর, কোথাও চায়ের দোকান, কোথাও উপাসনালয়, বিদ্যালয়।
ভোরের আলো ফুটতেই দেখা যায় কুয়াশা ভেদ করে হেটে যাচ্ছেন শ্রমিকরা চা-পাতা তুলতে। কিন্তু অন্যান্য সব দিনের তুলনায় বাগানে বাগানে এখন অন্য রকম আমেজ লক্ষ্য করা যায়। সব কোলাহল চাপিয়ে বাতাসে কানে ভাসে মাইকের আওয়াজ। ভোটের ¯ে¬াগান। জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু,শেখ হাসিনা সরকার বার বার দরকার।
গত কয়েকদিন উপজেলায় কয়েকটি চা বাগানে গিয়ে দেখা যায় নির্বাচনী আমেজে ভুরপুর। সোমবার সকালে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ভাড়াউড়া চা বাগানে পাওয়া গেল সে রকম আমেজ। এটা যে নির্বাচনী আমেজ বুঝতে কোন দ্বিধা নেই। কারণ শ্রীমঙ্গল উপজেলার এই এলাকার দোকানঘর, মাটির ঘর, বিদ্যালয় ও গাছের গায়ে সাঁটানো প্রার্থীদের পোস্টারই বলে দেয় এখন এখানে চলছে নির্বাচনী উৎসব।
একাদশ সংসদ নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর। আর মাত্র হতে গণা কয়েকটা দিন বাকি।
চা বাগান অধ্যুষিত এলাকা শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে চা বাগান আছে প্রায় ৭০টির বেশি। আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাল্টে গেছে চা বাগানের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ধরন।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, চা শ্রমিক ভোটারদের ঘরে ঘরে সব প্রার্থীর প্রতিযোগিতামূলক আনাগোনায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে এখানে।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায় ,এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮৩০ জন। এই ভোটারদের মধ্যে প্রায় লক্ষাধিক চা শ্রমিক ভোটার রয়েছেন যারাই আসলে এই আসন জয়-পরাজয় নির্ধারন করে দেন।
একটি চায়ের দোকানে দুলাল হাজরা বললেন, চা শ্রমিকরা আগের মতো পিছিয়ে নেই। গত দশ বছরে চা বাগানে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, বেড়েছে শিক্ষার হার, বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে বেশীর ভাগ চা বাগান তাই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে বর্তমান সরকারকেই ক্ষমতায় দেখতে চান তিনি।
ভাড়াউড়া বাগানে কারখানা থেকে মেঠোপথ ধরে ঘরে ফিরছিলেন তরুণী এবং নতুন ভোটার দিপালী তাঁতি। জিজ্ঞেস করতেই বললেন, এবার প্রথম ভোট দিমু,যে ভালা মানুষ তাকেই আমি ভোট দিমু।
এই আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৯১ থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত,বর্তমান সাংসদ আব্দুস শহীদ।

আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান, উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে গণফোরাম প্রার্থী হয়েছেন শান্তিপদ ঘোষ আর হাতপাখা প্রতিক নিয়ে ও মাঠে নেমেছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা সালাউদ্দিন।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, পাঁচজন দাঁড়ালেও আওয়ামীলীগ আর বিএনপির মধ্যেই মূল লড়াইটি সীমাবদ্ধ থাকবে।
ভাড়াউড়ার পাশের বাগানটি হচ্ছে জাগছড়া চা বাগান এলাকায়ও চলছিল প্রার্থীদের তুমুল প্রচার প্রচারণা।
ভুড়ভুড়িয়া, ফুলছড়া, সাতগাঁও, মির্জাপুর চা বাগানেও প্রার্থী ও নেতা কর্মীরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভাড়াউড়া থেকে জাগছড়া ও ভুরভুড়িয়া যাওয়ার পথে টিলার ওপর সবুজ বাগানের মধ্য দিয়ে চলতে চলতে চোখে পড়ল চারদিক ছেয়ে আছে শত শত পোস্টারে।
জাগছড়া চা বাগান থেকে মাজদিহী চা বাগানের ভেতর ঢুকেই চোখে পড়ে দুর্গা মন্দির।
সেখানে বয়স্ক চা শ্রমিক প্রদীপ রিকিয়াশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি জানালেন,স্বাধীনতার পর থেকেই ভোট দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আমাদেও সবকিছু হইলে,এবার শেখ হাসিনার কাছে আমাদের একটা দাবি ভুমির অধিকার নিশ্চিত করা। নৌকা সব সময় ভোট দিয়েছি। এইবার দিবো এই শর্তে ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি হবে।’
প্রসঙ্গত: চা শ্রমিকরা বংশপর¤পরায় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির পক্ষেই ভোট দিয়ে থাকে। এ কারণে প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীরা চা শ্রমিকদের মন জয় করতে বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে।

 

শেয়ার করুন