বাইক্কা বিলে কমে যাচ্ছে অতিথি পাখির সংখ্যা

তোফায়েল পাপ্পু, মৌলভীবাজার:: একসময় এখানে পাখিদের মিলন মেলা দেখা যেতো। কাকডাকা ভোর বেলা থেকে সকাল পর্যন্ত, আবার বিকেলের ,শুরু থেকে সন্ধ্যা নামার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত দেখা যেতো পখিদের যতো খেলা নেলা। কিন্তু দিন দিন সে পাখিদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কা বিলের মূল আকর্ষণ নানান ধরনের পাখি। সব জায়গা শীত শেষে পরিযায়ি পাখিরা বেশির ভাগ চলে গেলেও সারা বছরই পাখি দেখা গেলেও গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কারণে অতিথি পাখির সংখ্যটা কমে যাচ্ছে। আর এ বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে যারা আসছেন তারাও পাখি না পেয়ে ফিরছেন অনেকটা হতাশা নিয়েই।
সরেজমিনে গতকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা অব্দি বাইক্কা বিলে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাইক্কা বিলে হাতে গুনো কিছু দেশীয় পরিচিত পাখি বসে রয়েছে। কিছু পাখি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। সন্ধ্যা হওয়ার পর পর বাইক্কা বিলের পাশের গাছগুলোকে অনেক পাখির দেকা মিলে। তবে এর সবই দেশী পাখি। পর্যটকদেও জন্য এখানে বানানো ওয়াচ টাওয়ারে উঠে পর্যটকরা পাখি খুঁজে বেড়াচ্ছেন। বাইক্কা বিলের আশে পাশে ছবি তুলে ফিরে যাচ্ছেন।
এখানে বেড়াতে আসা পর্যটক মিঠুন পাল বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে পাখি দেখতে বাইক্কা বিলে গিয়েছিলাম। এখানে আসার উদ্যেশ্যই পাখি দেখা। এসে দেখি শুধু পানি কোনো পাখি নেই। গত কয়েক বছর আগে এখানে এসে অনেক পাখি দেখেছিলাম। কিন্তু বছর তিন এক পরে এসে দেখলাম পাখির সংখ্যা একবারেই কম। পাখি দেখতে না পেরে অনেকটা হতাশ হয়েছি।
বাইক্কা বিলে ছবি তুলতে আসা ওয়াল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার রনজিত জনি বলেন, পাখির ছবি তুলার জন্য বাইক্কা একটি ভালো জায়গা। এখানে প্রচুর পাখি পাওয়া যায়। রঙ বেরঙের পাখির ছবি তুলতে সারাদেশ থেকেই এখানে ফটোগ্রাফাররা ছবি তুলতে আসে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে দিন দিন দিন এই জায়গায় যেবাবে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে করে পর্যটকরাও এখানে আসা কমিয়ে দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহল এর কারন খুঁজে বের করে পদক্ষেপ নেয়া জরুরী মনে করছি।
বাইক্কা বিলে পাখি কমে যাওয়ার নানা সমস্যা তুলে ধরে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, হাওরের পানিতে শিকারীরা জাল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। হাওরে বাধ দিয়ে মিশিন লাগিয়ে পানি সেচা হয়। কারেন্ট জাল বিছিয়ে রাখা হয় পাখিদের ধরার জন্য। জালে একটি পাখি আটকা পড়লে অন্য পাখিরা ভয়ে এই স্থানগুলো ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাছাড়া বাইক্কা বিলে নৌকা নিয়ে প্রায়ই চলাচল করতে দেখা যায়। যা পাখির জন্য খুবই ভয়ানক বিষয়।
সেইভ আওয়ার আনপ্রটেক্ট লাইফ (সউল) এর নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাইক্কা বিলে আসা পরিযায়ী পাখিরা একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বাইক্কা বিলকে বেছে নেয়। বাইক্কা বিল অভায়শ্রমের কচুরী পানা, নলখাগরা ইত্যাদি হচ্ছে পাখিদের খাবার ও আশ্রয়স্থল। পাখিরা এগুলো খায় এখানেই ঘুমায়। কিন্তুবছর কয়েক ধরে দেকা যাচ্ছে যাচ্ছে কিছুদিন পর পর বিল পরিস্কারের নামে এগুলোকে অপসারণ করা হয়। খাদ্য ও বাসস্থানের সংকটের কারনেই মুলত পাখিরা এখানে আসা কমিয়ে দিয়েছে। বাইক্কা বিলের দুই পাশে যেভাবে ফিসারি ও ঘরবাড়ি নির্মান হচ্ছে এতে করে পাখিরা ভীত হচ্ছে। এ কারনে দিন দিন এখানে পাখির আনাগুনা কমে যাচ্ছে।
এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, বাইক্কা বিলে শীত কালে এখানে যে অতিথি পাখি আসে তাদের অভয়াশ্রমে যাতে কারো কোন কারনে পাখিদের অভায়শ্রমের মুল স্বরুপটা নষ্ট না হয় সে জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এখানে যে যে প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলো অপসারনে আমরা দ্রত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
শেয়ার করুন