মাদকাসক্ত ফেরারী আসামীকে পুলিশে তুলে দিলো পরিবার


শাকির আহমদ :: দীর্ঘ দিন ধরে তিনি মাদকাসক্ত। মেয়ে শিশুকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে বেশ কিছু দিন জেল খেটে বাড়ি ফিরেন। তবুও নেশা ছাড়তে পারেননি। মাদকের একটি মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিশ বলছে, তিনি ফেরারি ছিলেন। এ দিকে মাদকাসক্ত হয়ে নির্যাতনের কারণে পরিবারের সদস্যরা তাঁর ওপর অতিষ্ট হয়ে পড়েন।

এ পরিস্থিতিতে তাঁরা বাধ্য হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রæয়ারি) তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের জয়পাশা এলাকায়। মাদকাসক্ত ওই যুবকের নাম, খাইরুল ইসলাম (২৭)। শুক্রবার (১৫ ফেব্রæয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে মৌলভীবাজারের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, খাইরুল এক সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। চার থেকে পাঁচ বছর আগে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েন। তাঁর বাবা বেঁচে নেই। পরিবারের মা, দুই ভাই, স্ত্রী ও সাত বছর বয়সী এক ছেলে আছে। নেশা করে বাড়ি ফেরায় গত বছরের (২০১৮) প্রথম দিকে স্ত্রী মুসলিমা বেগম তাঁকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি (খাইরুল) স্ত্রীর কোলে থাকা ৪০ দিন বয়সী মেয়েকে টেনে নিয়ে ঘরের বারান্দায় ছুড়ে ফেলে দেন। পরে ওই শিশুটি মারা যায়।

এ ব্যাপারে স্ত্রী মুসলিমা কুলাউড়া থানায় খাইরুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা সদরের হাজতে পাঠিয়ে দেয়। ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর তিনি জামিনে ছাড়া পান। পরে পারিবারিক আপোসের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায়। গত (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে মাদকাসক্ত অবস্থায় খাইরুল তাঁর বড় ভাইয়ের ছেলে নাহিদকে (৮) একটি কক্ষে আটকে রাখেন। স্বজনেরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাইরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দিদার উল্লাহ্ বলেন, খাইরুল পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন করে আর কোনো মামলা হয়নি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে শুক্রবার (১৫ ফেব্রæয়ারি) মৌলভীবাজারের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন