অপহরণের এক মাসেও সন্ধান মিলেনি আলেম আব্দুল্লাহ মাইমুনের

 

স্টাফ রিপোর্টার॥ অপহরণের একমাস পের হলেও সন্ধান মিলেনি মেধাবী আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ আব্দুল্লাহ মাইমুনের। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর থেকে তাকে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা সহ পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে কোন প্রকার সহযোগিতা পাচ্ছেননা। মায়মুনের পরিবার এবিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, সিলেটের ডিআইজি সহ সরকারের উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এলাকাবাসি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ই মার্চ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাইমুন তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্ত্রীকে নিয়ে সিলেট থেকে প্রাইভেট কার ঢাকা (মেট্রো-গ ১২-২২৩৪) যোগে মৌলভীবাজারে রায়পুর (মামরকপুর) নানার বাড়ি যাওয়ার সময় পথিমধ্যে শেরপুর থেকে গ্যাস নেওয়ার জন্য আউশকান্দি গ্যাস পাম্পে থামেন। তখন রাত ১০টা। সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রীকে বহনকারি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনার পর চালক গাড়ি থামালে মাইক্রোবাস থেকে ৪/৫ জন অস্ত্রধারী কারের দুই পাশের ভাংচুর করে ত্রাস সৃষ্টি করে। এসময় মায়মুনের স্ত্রী লন্ডন প্রবাসি নুসরাত পালিয়ে আউশকান্দি এলাকার একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচলেও স্বামী আব্দুল্লাহ আল মায়মুন ও গাড়ি চালক আব্দুর রহিমকে মাইক্রোবাসে তোলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনা স্থানীয়রা অবলোকন করেন।

সিলেট প্রেসক্লাবে আব্দুল্লাহ’র ভাই সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লতিফপুর গ্রামের মাওলানা মাহমুদ হোসাইনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিজ এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের ডিআইজি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ সরকারের উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনাস্থল নবীগঞ্জ উপজেলায় হওয়ায় পরদিন থানায় মামলা দিতে গেলে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন দু’দিনের মধ্যে ভিকটিমদ্বয়কে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে বলেন- যদি এর মধ্যে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব না হয় তবেই আপনারা মামলা দেবেন। কিন্তু, ১ মাসের বেশী হলেও তাদেরকে উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি মামলাও নেয়নি থানা পুলিশ।

থানায় মামলা না নেয়ায় হবিগঞ্জ চীপ জুডিসিয়েল ম্যাজেষ্ট্রেট আদালতে আব্দুল্লার খালাতো ভাই আব্দুল আওয়াল চৌধুরী সাহেদ ১৮ মার্চ পিটিশন মামলা দায়ের করলে, আদালতের বিচারক তদন্ত সাপেক্ষে মামলা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দ্দেশ দেন।

আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিজ আরও জানান, গত ১১ মার্চ বিকেল ৪ টায় +০০৯৬৩৮৮৮৮৭৬৩ নাম্বার থেকে তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও অপহৃত আব্দুল্লাহ মায়মুনের সাথে থাকা মোবাইল নাম্বার ০১৭ ১২০৪৫৫০৬ থেকেও তারা কল দেয়।

পরদিন ভিক্টিমের পরিবার সেই কলের ভয়েস রেকর্ড, নাম্বারসহ বিস্তারিত তথ্য জানাতে নবীগঞ্জ থানার ওসি তদন্তের কাছে জানান। পরে নবীগঞ্জ পুলিশ মৌলভীবাজার থানায় মামলা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানান। কেন, কী কারণে পুলিশ এমন আচরণ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন মোস্তাফিজ।

এদিকে, স্বামীকে খোঁজে না পেয়ে লন্ডনফেরত স্ত্রীও ভেঙ্গে পড়েছেন। পরিবারের অন্যান্য স্বজনরা তাকে খুঁজতে খুঁজতে নিরূপায় হয়ে পড়েছেন। ভাইকে দ্রুত উদ্ধার ও অপহরণকারিদের উদ্ধারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মায়মুনের ভাই মোস্তাফিজ।

অপহৃত মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মায়মুন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মাওলানা মাহমুদ হোসাইনের পুত্র। তার স্ত্রী জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীধরা পাশা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাওলানা সালাউদ্দিন মনসুর এর কন্যা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সরিফা নুসরাত তাইবা (২০)।

কি কারণে অপহরণ করা হয়েছে, কেনইবা একজন ইসলামি চিন্তাবিদকে অপহরণ করা হলো, আইনশৃংলা বাহিনী কোন সহযোগীতা কেন করছেনা, অপহরণের রহস্য কি হতে পারে, এ সব প্রশ্ন গঠনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী, আব্দুল্লাহ স্ত্রী সহ পরিবারেরর সদস্যদের। পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী, স্বররাষ্ট্র মন্ত্রী সহ পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দ্রুত আব্দুল্লাহ আল মাইমুনকে সুস্থ শরীরের উদ্ধারের দাবী করেন।

শেয়ার করুন