টরন্টোয় ‘কিসের বিভ্রান্তিতে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো:

আধুনিক ইতিহাস, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার বিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. তাজ হাশমী বাংলাদেশের জনগোষ্ঠিগত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বলেছেন যে, তা কখনোই হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা ৬০ বছরের অধিক হিন্দু শাসিত ছিল বলে কোনো প্রমাণ নেই, বরং তা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের প্রভাবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়। গত ৭ এপ্রিল সকালে টরন্টোর গিল্ডউড মিলনায়তনে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীদের সমাবেশে ‘কিসের বিভ্রান্তিতে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি সে কথা বলেন।

ড. তাজ হাশমী বলেন, নানাবিধ ঐতিহাসিক কারণে মুসলিমরা হিন্দুদের প্রতিযোগি হয়ে উঠতে পারেনি, তার অন্যতম কারণ ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবের অবসান। ফলে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই অঞ্চলে ক্ষমতাধর সামরিক শক্তি হিসেবে দেখা দেয় এবং পর্যায়ক্রমে মুর্শিদাবাদ ও কলকাতায় ঢাকার রাজধানীটি স্থানান্তরিত হয়, যা তৎকালীন বিশ্বের এক-দশমাংশের বেশি আয়তনতুল্য অর্থনীতির অধিকারী ছিল। তথাপি ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের উত্তরে সংঘটিত একটি বৃহৎ আকারের সুনামীতুল্য ভূমিকম্প, গ্রামীণ অঞ্চলে চাষাবাদ ও উৎপাদন সংক্রান্ত বাস্তবতায় ভূমির রাজস্ব উত্তোলনে ইংরেজ প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথার প্রচলন, চাপিয়ে দেয়া ব্রিটিশ পণ্যের অবাধ বাজার সৃষ্টি এবং ব্রিটেনে অধিক শুল্কারোপিত আমদানী বিষয়ক সংরক্ষণবাদীতায় ১৭ ও ১৮ শতাব্দীতে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রফতানীকৃত ঢাকায় হস্তবুনিত মুসলিন কাপড়ের বিলোপ, ঢাকার সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠির গ্রামাঞ্চলে গমন ও সকল বঞ্চনার ফলশ্রুতিতে ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনীহা মুসলিমদের পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে ওঠে। কিন্তু হিন্দু সম্পৃক্ত বিশ্বাস ও ধারণা বা পুরাণ ও রাষ্ট্রযন্ত্রবিচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততা কালক্রমে সমাজ ও জাতির মানসিকস্তরে এমনভাবে প্রভাবান্বিত, যা এখনও আমাদের গণতন্ত্রের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিসহ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ক্ষেত্রে পশ্চিমা অসামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণে একাকার; অথচ বিশ্বায়নের যুগে তা আমরা আলোর অন্বেষাবিহীন মেনে নিচ্ছি।

ড. হাশমী বলেন, এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অধিকাংশই তার প্রকাশিতব্য বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক ‘হোয়াট ওয়েন্ট রং উইদ বাংলাদেশ? এ হিস্ট্রোলজিক্যাল সোস্যালজি ১৭৫৭-২০১৯’ গ্রন্থে তুলে ধরা হবে, যা যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড লাইব্রেরি প্রেস মুদ্রণ করছে। অন্যদের মাঝে ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ব্যারিষ্টার ম্যাক আজাদ, সম্পাদক রেজাউল করিম তালুকদার, শহিদ খন্দকার টুকু, মাহবুব রব চৌধুরী, অধ্যাপক মুজিবর রহমান, সম্পাদক আহাদ খন্দকার, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও রিয়েলটর কোহিনুর তানভির। এতে মাহবুব রব চৌধুরী বাংলাদেশে একটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অপরিহার্যতাটি তুলে ধরেন।
ই-মেইল: bukhari.toronto@gmail.com

শেয়ার করুন