কুয়াকাটার গঙ্গামতি সৈকতে লাল কাঁকড়ার ছুটোছুটি

মোঃ হাসানুজ্জামান (অমি গাজী), পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

বিশাল সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা সূর্যের আলোর ছটা দর্শনের জন্য এখন প্রসিদ্ধ স্থান কুয়াকাটার গঙ্গামতি। গঙ্গামতি সৈকতে পর্যটকদের পদচারনা ক্রমশ: বাড়ছে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ ছাড়াও বিস্তীর্ন সৈকতের বালুকা বেলায় লাল কাঁকড়ার ছোটা ছুটি পর্যটকদের আকর্ষন করছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধূলাসার ইউনিয়নের ১নং খাস খতিয়ানে গঙ্গামতি
সমুদ্র সৈকতের অবস্থান। গঙ্গামতি সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কি.মি, প্রস্থ দুই কি.মি.। এছাড়া সৈকতের সঙ্গে দু’হাজার একরেরও বেশি খাসজমি রয়েছে। এখানে রয়েছে প্রায় এক হাজার ৩৩৮ একর জমি নিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার পরও এখানে পর্যটকদের জন্য কমদামে কাঁকড়া ফ্রাই রয়েছে, পর্যটকদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে রয়েছে ২টি টিউবয়েল, পয়:নিস্কাশনের জন্য ২টি বাথরুম, চায়ের ষ্টল। আর রয়েছে অবরাতি সবুজের হাতছানি, বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের উম্মাদনা, সৈকতে আছড়ে পড়া শো শো শব্দের ঢেউয়ের গর্জন। পিকনিক স্পট ও সৈকতের বালুকাবেলায় ছোট ছোট লাল কাঁকড়ার নৃত্য।

কলাপাড়া সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৫ কি.মি। গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার ওপার্কের প্রবেশদ্বারে যাওয়ার সড়কটি পাকা না হওয়ায় দূর্ভোগে পড়ছেন প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খূঁজে বেড়ানো পর্যটকরা। সড়কের মাঝ খানে কাঠের তক্তা দিয়ে বর্ষাকালে পানি আসা যাওয়ার জন্য কালভার্ট রয়েছে। সেই কাঠের কালভার্টটিও এখন ব্যবহার অনুপযোগী, যে কোনো সময় ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। অথচ দিনের আলোয় প্রকৃতির সবটুকু সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখন ক্রমশ: ভিড় বাড়ছে এ
গঙ্গামতি সৈকতে।

গঙ্গামতি সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ আলী খাঁন’র অভিব্যক্তি, ’ছবি তুলে লাভ নেই। এভাবে কত ছবি তুলছে? কিন্তু আজও পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় পর্যটকসহ আমাদের যেন দূর্ভোগের শেষ নেই।

ঢাকার মিরপুর থেকে কুয়াকটায় বেড়াতে আসা পর্যটক তামান্না আহমেদ বৃষ্টি জানান, ’প্রকৃতির কাছে এসে প্রকৃতিকে জানা, দেখা ও নিরিবিলি নির্জনে সমুদ্রের উচ্ছাস, কষ্ট উপভোগ করার জন্য চমৎকার একটি স্থান গঙ্গামতি। কিন্তু সৈকতের প্রবেশদ্বারে যাওয়ার সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী। অনেকক্ষন পায়ে হেঁটে সৈকতে আসতে না হলে আরও সুখকর হত প্রকৃতির মাঝে আমার এ হারিয়ে যাওয়া।’

স্থানীয় ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল আকন জানান, ’রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে করা হয়। কিন্তু বালু দিয়ে রাস্তা তৈরি করার পর ইট দিয়ে গাইড ওয়াল দিতে না পারায় তা আবার আগের মত হয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ না থাকায় কিছুই করা যায়নি।

কলাপাড়া এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান জানান, ’গঙ্গামতির পার্কের প্রবেশদ্বারে যাওয়ার কাঁচা সড়কটি পাকা করনে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।

শেয়ার করুন