কুলাউড়ায় প্রতিবেশীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা, হামলায় আহত এক

কুলাউড়া প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অন্যের বসতবাড়ির ভূমি অবৈধভাবে জবর দখল করে গৃহনির্মাণ চেষ্টাকারীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গত ১ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের কর্মধা গ্রামে ঘটেছে। হামলায় বাড়ির মালিক মৃত আব্দুছ ছত্তারের মো. মনোয়ার হোসাইন রুজেল (২৪) নামে যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

এবিষয়ে গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) মনোয়ার হোসাইন রুজেল বাদি হয়ে ৪জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা (নং-৩) দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দির্ঘদিন ধরে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মৃত আব্দুছ ছত্তারের ছেলেদের বসতভিটা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছিলেন পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দারা। এনিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ দু’পক্ষের বিরোধ চলছিলো এবং একাধিকবার শালিসও হয়। এরইমধ্যে গত সোমবার (১ জুলাই) মনোয়ার হোসাইনদের পৈত্রিক বসতভিটার সীমানা ওপর জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ চেষ্টা করেন ফিরোজ মিয়া ও তাঁর পুত্ররা। প্রতিপক্ষ ফিরোজ মিয়া ও উনার ছেলে আলাউদ্দিন, সালাহউদ্দিন, রিয়াজউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন লোক মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ মনোয়ার হোসাইনের বাড়ির সীমানার ওপর জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করে। নিজেদের বসতভিটার ওপর ঘর নির্মাণে বাঁধা দেন মনোয়ার হোসাইন ও তাঁর ভাইয়েরা। এসময় আলউদ্দিন (২৮) মনোয়ার হোসাইনের ওপর অতর্কিত হামলা করে। একপর্যায়ে ফিরোজ মিয়া (৫০) ও তাঁর তিন পুত্র আলাউদ্দিন (২৮), সালাহউদ্দিন (২৪) এবং রিয়াজ উদ্দিন (২০) দেশীয় অস্ত্র-লাঠিসোঠা দিয়ে একত্রে হামলা চালালে মনোয়ার গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতবস্থায় মনোয়ারকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

এব্যাপারে মামলার অভিযুক্ত আলাউদ্দিনের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বসতবাড়ির নিয়ে আমাদের দু’পক্ষের পূর্বপুরুষদের দির্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিলো। সেটি অনেক আগেই সমাধানও হয়ে গেছে। আমরা আমাদের জায়গার সীমানায় ঘর নির্মাণ করছি। মনোয়াররা বাঁধা দিলে তাদেরকে বলেছি ঘরের ছাদ ঢালাই সীমানার ৬ ইঞ্চি ভিতরে থাকবে। আমরা কোন হামলা করিনি।

আহত মনোয়ার হোসাইন রুজেল বলেন, আমাদের বসতভিটা দির্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছিলো আলাউদ্দিন ও তাদের পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠকে কাগজপত্র অনুযায়ী ভূমি জরীপ ও মাপ দিয়ে আলাদা করে সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে সীমানা নির্ধারণের আগেই জোরপূর্বক আমাদের সীমানার ওপর ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে আলাউদ্দিনরা। ঘটনার দিন বাঁধা দিলে আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রদিয়ে হামলা চালিয়ে প্রাণে হত্যার চেষ্টা চালায় আলাউদ্দিন ও তার সহযোগিরা। পরে আমার পরিবারের ও স্থানীয় লোকজনরা তাদের হাত থেকে আমাকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক হারুন আল রশীদ বলেন, ঘটনাটি তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন