মৌলভীবাজার জেলা এসোসিয়েশন, টরন্টো, অন্টারিও, কানাডার আয়োজনে বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টারঃ

শীত প্রধান দেশ কানাডার অন্যান্যদের মতো বাংলাদেশি অভিবাসীরাও অধির আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন গ্রীষ্মের জন্য। দীর্ঘ শীতের জীর্ণতা ও নিরবতা কাটিয়ে প্রকৃতি যেমন এসময় নিজেকে মেলে ধরে, ঠিক তেমনি কানাডিয়ান বাংলাদেশিরাও মেতে ওঠেন বিভিন্ন আনন্দ আয়োজনে। এরই ধারাবাহিকতায় টরন্টোর মৌলভীবাজারবাসী মেতে উঠেছিলেন বাৎসরিক আয়োজন ‘বনভোজন ২০১৯’ এ।

মৌলভীবাজার জেলা এসোসিয়েশন টরন্টো, অন্টারিও, কানাডার উদ্যোগে গত সোমবার (৫ আগস্ট) ইস্ট ইয়র্কের টেইলর ক্রিক পার্কের ৪ নাম্বার স্পটে অনুষ্ঠিত হয় এই বনভোজন। সিভিক হলিডে অর্থাৎ ছুটির দিন হওয়ায় উপস্থিত সকলেই অত্যন্ত আনন্দে দিনটি অতিবাহিত করেন। এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহবুব অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, টরন্টোর মৌলভীবাজারবাসীর মধ্যে সেতু বন্ধনের উদ্দেশ্যে এই সুন্দর আয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের গর্ব মৌলভীবাজারের সন্তান স্কারবরো সাউথ-ওয়েষ্টের এমপিপি ডলি বেগম। এ সময় ডলি বেগম এসোসিয়েশনকে অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে অভিনন্দনপত্র পত্র প্রদান করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অন্টারিও, জালালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো, হবিগঞ্জ জেলা এসোসিয়েশন অব অন্টারিও, সুনামগঞ্জ জেলা এসোসিয়েশন অব টরন্টো এবং বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

কানাডার ব্যাস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি নিতে দলমত নির্বিশেষে এই বনভোজনে উপস্থিত হয়েছিলেন বহু বাংলাদেশি। এতে অনেক মহিলা এবং শিশুরাও অংশ নেন। হরেক পদের মুখরোচক বাংলাদেশি খাবার খেয়ে সবাই তৃপ্তির ঢেকুর তুলে খাবারের ভূয়সী প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানান তারা। খাবারের আয়োজনে তরমুজ, ঝালমুড়ি, চা এবং রসগোল্লাও বাদ যায়নি। খাওয়া শেষে অনেকেই আনন্দ মনে মুঠোফোনের সাহায্যে বারবার “সেলফী” তুলতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। এরপর শুরু হয় ছোট, বড়, পুরুষ, মহিলাদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, শুরু হয় হৈ-হুল্লোড় ও সকার খেলা।

দিনব্যাপী এই বনভোজনের আনন্দ উপভোগ করতে করতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। সুখের দোলায় উক্ত মনোরম স্থান ত্যাগ করার পূর্বে অনুষ্ঠিত হয় রাফেল ড্র এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠান। বিভিন্ন খেলাধুলায় বিজয়ীদের হাতে এবং রাফেল ড্র এর প্রথম পুরস্কার ৫০ স্মার্ট টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার বাই সাইকেল এবং তৃতীয় পুরস্কার এন্ড্রোয়েট ট্যাবলেট তুলেদেন সম্মানিত অতিথি এবং এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

এসোসিয়েশনের সভাপতি দেওয়ান আব্দুল গফরান চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সহ অংশগ্রহণকারী সকলকে এবং বিভিন্ন ভাবে যারা সহযোগিতা করেছেন এবং এসোসিয়েশনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, বনভোজনে আগত টরন্টোর সকল মৌলভীবাজারবাসী সহ সকলকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এবারের বনভোজনের আহবায়কের দায়িত্ত্বে ছিলেন এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়েকুল হক চৌধুরী। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জহিরুল ইসলাম, মুহিবুর রহমান খাঁন, সৈয়দ ফেরদৌস, মোর্শেদ আহমদ মুক্তা, মোঃ আব্দুর রহিম দাদুল, আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ, সুমন আহমদ সহ এসোসিয়েশনের কার্যকরি পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ।

বনভোজনে কানাডা থেকে সম্প্রচারিত দেশে বিদেশে টিভির আয়োজনে জাহানারা নাসিমার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় সেরা রাঁধুনি প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে দেশে বিদেশে টেলিভিশনের পক্ষ থেকে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন