শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলকে ঘিরে মুখ খুললেন মুক্তিযোদ্ধা এমএ মান্নান ‘যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছে, তারা আজ যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না’

  • শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
    শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম.এ মান্নান বলেছেন, “যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছে, তারা আজ যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না। এখন যারা দলের বিভিন্ন পর্যায়ে বড় বড় পদ নিয়ে বসে আছেন, তাদের অনেককেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর রাজপথে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই সময় আমরাই প্রতিবাদ করেছি। আজও বঙ্গবন্ধুর নৌকার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ১৯৭০ সালে শ্রীমঙ্গলে আওয়ামীলীগ করার লোক ছিল না। ওই সময় বর্তমান মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মো.আজিজুর রহমান, হাজি জয়নাল আবেদিন, মরহুম ওয়াদুদ ভাই অনেক কাজ করে আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমার নেতা ছিলেন ওয়াদুদ ভাই। দলের এমন সময় ছিল আজিজ ভাই চৌমুহনায় না থাকলে আওয়ামীলীগ দাঁড়াতেই পারত না। তাকে সামনে রেখেই আজকের এই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে হতো ”। তবুও দলের কাছে আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আজকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা,এটাই আমার প্রাপ্তি। এর বেশী কিছু নয়।’
    সেদিনকার এক বর্ণনা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এম এ মান্নান বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয়, তখন আমি শ্রীমঙ্গলের আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সেই অবস্থায় সারাদেশের সব নেতাকর্মী স্তম্ভিত। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকতাম। তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ শুরু হয় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। সেদিন আমরা ৩০ জন নারায়নগঞ্জের নাসিম ওসমানের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া হয়ে আগরতলা যাই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে। তারপর আগরতলা থেকে গোয়াহাটি শ্রী লং,মেঘালয়ে প্রায় দুই বছর অবস্থান করে সেখান থেকে সশস্ত্রবস্থায় আমরা প্রতিবাদ করি। ৭৭ সালে ভারতে মুরারী দেশাই ক্ষমতায় আসার পর একটা চুক্তির ভিত্তিতে আমাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দেয়া হয়। আমরা এই আন্দোলনে জয়লাভ করতে পারিনি, ভারতের রাজনৈতিকপট পরিবর্তনের কারণে। ওই সময় ভারত সরকার আমাদের সব ধরণের সহযোগীতা বন্ধ করে জিয়াউর রহমানের সাথে চুক্তি করে দেশে পুশব্যাক করেছিল।
    তিনি আরো বলেন, “এসময়ের ভিতরেই সিলেটের বালাগঞ্জের এমপি মরহুম শাহ আজিজ, বর্তমান কুলাউড়ার ছাত্রনেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ আমাদের সাথে জয়েন করেন। আমরা সবাই কাদের সিদ্দিকীর সাথে একসাথে ছিলাম। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গেছি। ময়মনসিংহ মহিলা ক্যাডেট কলেজের হোস্টেলে আমাদের প্রায় সাড়ে ছয়হাজার জনকে রাখা হয়েছিল। সেখানে আমি তিনমাস সাড়ে তিনমাস আটক থাকার পর মুক্তি পেয়ে শ্রীমঙ্গলে আসি। আমার জীবনের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধর ৯ মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যা ও জাতীয় চার নেতা হত্যার প্রতিবাদে আরও দুই বছর আমার পুরো যৌবনকালই আন্দোলন সংগ্রামে পার করি। আবারও দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছি। শ্রীমঙ্গলে ২০১৪ সালে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছি।
    দীর্ঘ ১৩ বছর পর আগামী ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এ সম্মেলনকে ঘিরে আলোচনায় তিনি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দলের নেতাকর্মীরা আমাকে সভাপতি পদে দেখতে চায়। তাই আমি এই পদ প্রত্যাশি। যদি কাউন্সিল হয় তা হলে প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে কাউন্সিলরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তারপরও দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হলে হতে পারে।
    মুক্তিযোদ্ধা এম.এ মান্নান ১৯৭০-৭১ সাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ মনোনীত নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। ৭১ সালে স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। ৭১ সালের ২৩ মার্চ শ্রীমঙ্গল থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি। দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন। শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। আসন্ন থানা শাখার সম্মেলনে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ইচ্ছায় সভাপতির পদ প্রত্যাশী।
শেয়ার করুন