১৪ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ আওয়ামীলীগের সম্মেলন; উদ্দীপনায় নেতাকর্মীরা

নোমান মাহফুজ, গোলাপগঞ্জ, সিলেটঃ
১৪ নভেম্বর গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেছে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ। এ কারণে ইতিমধ্যে অনলাইন পাড়ায় চলছে নানান হিসাব নিকাশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অমুক ভাইকে অমুক পদে দেখতে চাই উল্লেখ করে ছবি সহ পোস্ট দিচ্ছেন তাদের কর্মীরা। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে ঘিরে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বেড়ে গেছে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করার পর থেকেই। সব‘চে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে। এ পদে উঠে আসছে সাবেক ছাত্রনেতাদের নাম। তবে কে হবেন নির্বাচিত কান্ডারী তা বলা মুশকিল। সম্মেলনে বসন্তের কুকিলদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে বিভিন্ন কৌশলে ম্যাসেজ দিচ্ছে তৃণমূলকর্মীরা।
জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় পদ প্রত্যাশীরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। আওয়ামীলীগ গোলাপগঞ্জে একটি শক্তিশালী সংগঠন হলেও নিজেদের মধ্যকার বিরোধ আর কোন্দল নেতাকর্মীদের বিভক্ত করে রেখেছে।
২০০৪ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে যে কমিটি গঠিত হয়েছিল। এই কমিটি এখনো বহাল আছে। আওয়ামীলীগের উপজেলা সভাপতি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী এ সময়ের মধ্যে দু’বার গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে সর্বত্র তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সিলেট ৬ আসনের এমপি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেও গোলাপগঞ্জে নিজ দলের বড় একটি অংশ তার বিপরীতে রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নুরুল ইসলাম নাহিদের সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি বয়কট করে চলছে। এবারের সম্মেলনে তাদের অনেকেই ভালো পজিশন লাভ করতে সব ধরনের কর্মতৎপরতা চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। সভাপতি পদে লড়বেন প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতারা আর সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন বেশীরভাগ সাবেক ছাত্রনেতারা।
সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার সাথে সাথে নীরবে চলছে প্রচারণা। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রচারণার ধরণ পাল্টে প্রচারণা চলছে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে। এছাড়া বিভিন্ন প্রার্থী ব্যাক্তিগতভাবে কাউন্সিলরদের কাছে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের উপজেলা সভাপতি হিসেবে যারা প্রত্যাশী তাদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডাক্তার আব্দুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমান সভাপতি এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী আবার প্রার্থী হলে অন্যরা এ পদে প্রার্থী নাও হতে পারেন। সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিছবাহ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ জিলু, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন, বুধবারী বাজার ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শরিফ উদ্দিন শরফ, উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সেক্রেটারী রুহেল আহমদ, উপজেলা ছাত্র লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি খায়রুল হক, সেক্রেটারী এম এ ওয়াদুদ এমরুল। দীর্ঘ দিন পর আওয়ামীলীগের উপজেলা সম্মেলনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে। বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায়, ১৪ নভেম্বরের আগে সবক’টি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগ।
সম্মেলনের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগেরর অধিকাংশ নেতাদের দাবী, তৃণমুলের ভোটের মাধ্যমে আগামী সম্মেলনে গোলাপগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। বসন্তের কুকিলদের ব্যাপারেও সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, তৃণমুল ভোটাররা যাকে নির্বাচিত করবে তার নেতৃত্বে গোলাপগঞ্জ আওয়ামীলীগ এগিয়ে যাবে।  আওয়ামীলীগ বড় দল, ভুল বুঝাবুঝি থাকতে পারে তবুও যথাসময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং তৃণমুলের ভোটে গোলাপগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবেন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন হবে এমনটাই মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
শেয়ার করুন