ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজান মৌলভীবাজার কারাগারে

সাইফুল ইসলাম.
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলায় মৌলভীবাজার আদালতে তোলা হয়েছে।
আজ (২২অক্টোবর) মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার ২নং আমলী আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহীর আদালতে মিজানকে হাজির করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মৌলভীবাজার আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আব্দুল হাই চৌধুরী দুপুরে এতথ্য নিশ্চিত করেন। রিমান্ডের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,রিমান্ডের আবেদন এখনও দাখিল হয়নি। প্রক্রিয়া চলছে ২/১ দিন পর রিমান্ডের আবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।’
মৌলভীবাজার কারাগারের জেল সুপার মো.আনোয়ারুজ্জামান বলেন, কাউন্সিলর মিজানকে গতকাল রবিবার ঢাকা কারাগার থেকে মৌলভীবাজার কারাগারে আনা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতে নেয়া হয়েছে। আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে পূনরায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’

প্রসঙ্গত.গত ১১ অক্টোবর ভোর রাতে শ্রীমঙ্গলের গুহ রোডের মৃত ফজলুর রহমানের বাসা থেকে ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থাকা ও দুর্নীতির অভিযুক্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে অস্ত্রসহ র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সদস্যরা গ্রেফতার করে। আটকের সময় তার কাছ থেকে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন ও নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর দুপুরে শ্রীমঙ্গল থানায় র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবদুল জব্বার বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

আটকের পর ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের আরেকটি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় তাকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল থানায় দায়েরকৃত মামলায় শোন এরেস্ট দেখিয়ে আদালতে উপস্থিত করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
ফজলুর রহমানের স্ত্রী নূরজাহান বেগম বলেন, তার মেয়ে জামাই মোস্তাক আহম্মেদ ৭ বছর আগে মারা গেছেন। গত ১০ অক্টোবর দুপুরে মিজান তার বাসায় আসেন। তার হাতে শুধু একটি ব্যাগ ছিল। এক রাত থেকে পরের দিন (শুক্রবার) সে সিলেট মাজারে যাবে বলেছিল। গত বছরও তিনি একবার এসে এক রাত থেকে পরের দিন মাজারে গিয়েছিলেন।
নূরজাহান বেগমের মেয়ে শিউলি বেগম বলেন, ‘মিজান আমার জামাইয়ের বন্ধু ছিল। সে খারাপ ছিল এটা আমাদের জানা ছিল না। আমার জামাইয়ের বন্ধু হিসেবে বেশ কয়েকবার আমাদের বাসায় এসেছে। তার কাছে হানিফ বাসের টিকেট দেখে বুঝেছি তিনি গাড়িতে এসেছেন। আগে যতবার তিনি এসেছেন গাড়ি নিয়ে এসেছে।’

শেয়ার করুন