ছাতকে সড়ক দূর্ঘটনায় বাবা-মায়ের মৃত্যু: থামছেনা অসহায় তিন শিশুর কান্না

জালালাবাদ বার্তাঃ

ছাতকে যাত্রীবাহী লেগুনা খালে পড়ে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসিনা বেগম (৪০) এর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বাউভোগলী গ্রামের নিজ বাড়ীতে জানাযা শেষে স্বামীর কবরের পাশেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। বুধবার বিকেল ৩টায় সিলেট ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিংশ্বাস ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, ১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেল অনুমানিক ৪ টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের বুড়াগাঁও-আলাপুর গ্রামের মধ্যখানে সদরপুর এলাকায় যাত্রীবাহী লেগুনা নং(সিলেট-ছ-১১-২০৭৩) নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খালে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই লেগুনার যাত্রী, নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২জন আহত হন। ওই মর্মান্তিক সড়ক দূঘটনায় ওই দিন রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাসিনা বেগমের স্বামী মখজ্জুল আলী (৫১) মৃত্যু হয়। ওই সড়ক দূর্ঘটনায় তাদের তিন সন্তান সামছিয়া বেগম (৫), ফেরদৌসী বেগম (৩) ও ২১ মাস বয়সের শিশু পুত্র আমিনুর রহমান গুরুতর আহত হয়। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিন শিশু বাড়িতে ফিরলেও মা-বাবার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে তারা। তাদের মধ্যে দুই শিশুর কান্না থামলেও কান্না থামেনি ২১ মাস বয়সের শিশু পুত্র আমিনুর রহমানের। সে দুধ পানের জন্য তার মাকে খুঁজছে। তাদের বাড়িতে এখনো ভিড় করছেন আতœীয় স্বজনরা ও এলাকার লোকজন। অনেকেই অনাথ শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে চোখের পানি মুছছেন। ফিটনেস বিহীন লেগুনা গাড়ী আর চালকের অদক্ষতার জন্য তিনটি শিশু অসহায় অনাথ হয়ে পড়েছে তিন শিশুর স্বজনদের অভিযোগ।

এ সড়ক দূর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনার সময় তাৎক্ষনিক জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি (বদিরগাঁও) একটি দল ঘটনাস্থল থেকে লেগুনাটি উদ্ধার করলেও ঘাতক চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ছাতক উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, বাউভোগলী গ্রামের এনামুল হক বলেন, ওই সড়ক দূর্ঘটনায় আহত একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচ সদস্যকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওইদিন রাতেই মখজ্জুল আলী মারা যান। তিন দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসিনা ও তার সন্তানদের ভর্তি করা হয় জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। হাসিনার অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে ইবনেসিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ওই দিন বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জানাযা শেষে স্বামীর কবরের পাশে স্ত্রীকে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি (বদিরগাঁও) ইনচার্জ রনু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার দিনই লেগুনাটি উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে রাখা হয়। ছাতক থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ঘাতক চালককে চিহ্নিত করাসহ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, এ ঘটনায় নিহতের আত্মীয় হাবিজুর রহমান বাদি হয়ে মঙ্গলবার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য আদালতে আরজি পেশ করা হবে।

সূত্রঃ ক্রাইম সিলেট

শেয়ার করুন