জামালপুর এপেক্স ক্লাবের ২০২০ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন আবু সায়েম মো. সা’-আদাত উল করীম

আন্তর্জাতিক সেবা মূলক সংগঠন এপেক্স বাংলাদেশের ২৫ তম ক্লাব, ডিস্ট্রিক্ট -(১) এপেক্স ক্লাব অব জামালপুরের ২০২০ সালের জন্য এপেক্সিয়ান আলহাজ্ব আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

১ নভেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টায় জামালপুর পৌরসভার সভাকক্ষে ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। সদ্য নির্বাচিত জামালপুর এপেক্স ক্লাব প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম (সায়েম) এপেক্স সম্পর্কে এই প্রতিবেদকে বলেন ১৯‌৩০ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক ভাবে মন্দা চলছিল। সেই সময় যুবকদের সংগঠিত করে দেশ সেবার লক্ষ্যে ১৯৩১ সালে নভেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ার লিজং শহরে তিন জন স্থপতি এওয়ান লেয়ার্ড, লংহাম প্রাউড ও জন বাকান তাদের গঠিত ব্যবসায়ী ক্লাবকে ‘এপেক্স’ নামে একটি সেবামূলক ক্লাবে রূপান্তরিত করেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক ভাবে এই ক্লাবের আদর্শে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় এপেক্স সেবা মূলক ক্লাব।

এপেক্স -এর অর্থ শিখর বা চূড়া। অর্থাৎ সকল কর্ম সম্পাদনের এপেক্সিয়ানগণ শিখরে বা সর্বোচ্চ চূড়ায় বা শীর্ষস্থানে আরোহন করবেন এমনই প্রত্যাশার আলোকেই সংগঠটির নাম ‘এপেক্স’ নাম করণ করা হয়। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের রাজধানী করাচিতেও প্রতিষ্ঠিত হয় এপেক্স ক্লাব। করাচিতে চাকুরি কালে বাঙালি প্রকৌশলী সুলেমান খান এপেক্স ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। তার ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৬১ সালের ১৯ জুলাই হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় প্রাদেশিক পরিষদের (যুক্তফ্রন্টের) সদস্য, এ্যাড. আহমেদুর রহমান খানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে ৪০জন সদস্য নিয়ে ঢাকা এপেক্স ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৬৩ সালে এই ক্লাব অস্ট্রেলিয়ার জোন-১০এর অন্তর্গত জেলা-৭ এর ৪০৮ নং ক্লাব হিসেবে চার্টারশীপ লাভ করে। চার্টার প্রদান অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের তৎকালীন গণ পারিষদ স্পিকার তমিজ উদ্দিন খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলে এপেক্স ক্লাব সারা দেশে সেবার লক্ষ্যে এর বিস্তার লাভ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১‌৯৮০ সালে ৭ জুলাই এপেক্সিয়ান ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট নুরুল ইসলাম এর হাত ধরে জামালপুর এপেক্স ক্লাব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। এপেক্স ক্লাব অব জামালপুরের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করায় সকল এপেক্সিয়ানদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি তরুণ প্রজন্মকে দেশ সেবার লক্ষ্যে এপেক্স ক্লাবে যোগদানের আহবান জানান। তিনি জামালপুর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় বেশ কিছু বিষয়ে লেটার মার্কসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে জামালপুর সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে বাণিজ্যিক বিষয়ে সফলতার সাথে এইচএসসি পাশ করেন। কলেজে পড়া লেখার পাশাপাশি সাবেক ছাত্রনেতা আ, ব, ম জাফর ইকবাল জাফর হাত ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে যোগদান করেন। তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এনামুল হক শামীম ও সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না অনুসারী হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯২-‌৯৪ইং ছাত্র সংসদের নির্বাচনে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে (মামুন-লিটন পরিষদ থেকে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সহ: সাহিত্য সম্পাদক পদে তিনিসহ আরো তিন জন ছাত্র নেতা নির্বাচিত হয়। সাবেক এই ছাত্রনেতা ১৯৯৮ সালে বি.কম. (অনার্স) ব্যবস্থাপনা ও ১৯৯৯ সালে এম. কম (মাস্টার্স) ব্যবস্হাপনা ডিগ্রী অর্জন করেন। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক , বহুজাতিক শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। উল্লেখ্য তিনি আইবিএ জামালপুরের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক। ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্যে ২০০৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনার বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর তত্ত্বাবধায়নে এমফিল (গবেষক) হিসেবে সম্প্রিক্ত হন। তিনি নব্বই দশকে ছাত্র জীবন থেকেই সাংবাদিকতা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি মাসিক শুভ সময় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। এছাড়া তিনি অন লাইন নিউজ পোর্টাল দেশের গর্জন এর কান্ট্রি এডিটর, ক্রাইম পেট্রোল ২৪.কম এর বিশেষ প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করেন। তিনি সাংবাদিকতা বিষয়ে বিভিন্ন উচ্চতর কোর্স ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং জামালপুর জেলা কংগ্রেস আহ্বায়ক। তিনি বাংলাদেশ কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন (সন্ধ্যা), তিনি একজন সিরামিক প্রকৌশলী।

প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম ২০১৭সালে তার মা’কে নিয়ে পবিত্র হজ্জ পালন করেন। তার পিতা মোঃ রেজাউল করিম, তিনি বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের সিনিয়র জুট পার্সেজ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে অবসর, তার মাতা সরকারি চাকুরিজীবী (শিক্ষকতা) হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। তার ছোট্ট দুই বোন একজন অর্থনীতি বিষয়ের কলেজ শিক্ষক, তার স্বামী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। তার সর্ব কনিষ্ঠ বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যে মাস্টার্স শেষে সরকারি চাকুরি (শিক্ষকতা) করেন, তার স্বামী ও কলেজে শিক্ষকতা করেন। ক্লাব প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম এর পৈত্রিক গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষির চর ইউনিয়নের চর গজারিয়া সরকার বাড়ি। তার দাদা মরহুম আব্দুল খালেক সরকার ছিলেন অত্র ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার নানা মরহুম আব্দুস সামাদ তরফদার ছিলেন বাংলাদেশ রেল ওয়ের প্রধান স্টেশন মাস্টার। তার নানার পৈতৃক বাড়ি মাদারগঞ্জের পাটাদহের তরফদার বাড়ি।তার নানীর সহোদর ছোট ভাই প্রফেসর আব্দুস সালাম ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী , কৃষি, মৎস, বন ও পরিবেশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। তার নানা সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর আব্দুস সালাম জামালপুর ও শেরপুর জেলা প্রতিষ্ঠায় অন্যতম বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

শেয়ার করুন