মৌলভীবাজার জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তি¡ক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পাঠদান পাচ্ছে না!

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি.
মৌলভীবাজার জেলায় নৃ-তাত্তি¡ক জাতিগোষ্ঠীর কোমলমতি শিশু ও শিক্ষার্থীরা নিজের মাতৃভাষার পাঠদান বিদ্যালয়ে না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে।
এই নৃ-গোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারলেও অধিকাংশই শিক্ষার্থী পড়তে-লিখতে পারছেন না।
বেশ কয়েকটি জনগোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব ভাষার বই থাকলেও নেই নিজস্ব ভাষার শিক্ষক। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা।
জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩১টি স¤প্রদায়ের ৩১ হাজার নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করছে। এরমধ্যে মণিপুরি, খাসি, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, মুন্ডা, উল্লেখযোগ্য। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সাধারণত পাহাড় ও টিলার পাদদেশ, বন কিংবা সমতল ভূমিতে বসবাস করে আসছে। এ ছাড়া চা শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অনেকেই। শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে তারা। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি, বাংলার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাষাশিক্ষাকেও যেন রাষ্ট্র সমানভাবে গুরুত্ব দেয়।
২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়। তারপর প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি ভাষার পাঠ্যপুস্তক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শুধু ত্রিপুরা ভাষার বই বিতরণ করা হয়। এই ১০ বছরে অন্য ভাষাগুলোর বই তেমন আলোর মুখ দেখেনি।
বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ সিলেট অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দেববর্মা  বলেন, ‘ত্রিপুরা ভাষার বই আমাদের শিক্ষার্থীরা পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই ভাষা পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। শিক্ষকের অভাবে আমাদের ভাষার বইগুলো পাঠদান হচ্ছে না।’
লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জির মান্ত্রী (গ্রামপ প্রধান) ফিলা পতমী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের বাংলা ভাষায় পড়ানো হচ্ছে। ফলে ছোটবেলা থেকেই তারা বাংলা ভাষা রপ্ত করছে। এ কারণে অনেকেই নিজেদের ভাষায় কথা বলতে পারলেও লিখতে পারে না।’
বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি জিডিশন প্রধান সুছিয়াং বলেন, শ্রীমঙ্গলে সরকারিভাবে শুধু ত্রিপুরাদের ভাষার বই পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও বইপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ না করার ফলে তা শুধু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাসিয়াদের মাতৃভাষার বই না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা মেঘালয় থেকে বই এনে খাসিয়া শিক্ষার্থীদের দিচ্ছেন। যদি সরকার এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার বইগুলো প্রকাশ করত, তাহলে সবকিছু সহজ হতো। মেঘালয় থেকে বই এনে বিতরণ করা খুবই কষ্টকর। তার রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে একটি বৃহৎ আকারে প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের ভাষার বই ও অন্য সবকিছু থাকবে। এ জন্য এরই মধ্যে একটি জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব যে ভাষা, সেটি আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
শেয়ার করুন