ফাঁড়িতেই রাখা হয়েছিলো রায়হানকে, মিথ্যা বলেছিলেন আকবর!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটে গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) নগরীর আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদের ‘পুলিশি নির্যাতনে’ মৃত্যু নিয়ে রহস্য কাটছে না। প্রথম থেকেই নিহতের পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে পাওয়া যায় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যেও রয়েছে অনেক অসঙ্গতি।

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে বন্দরবাজর ফাঁড়ির চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীলরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন ‘দায়িত্বে অবহেলা’।

এই ‘দায়িত্বে অবহেলা’র বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ পিপিএম’র সঙ্গে। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি  বলেন, শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় রায়হানকে ছিনতাইকারীরা মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে রাত ৩টার দিকে রায়হানকে উদ্ধার করে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু সে আহত থাকায় প্রথমেই রায়হানকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিলো। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা তাকে আহত অবস্থায় ফাঁড়িতে রেখেই আইনি প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এটাই মূলত দায়িত্বে অবহেলা।

এর আগে গতকাল পুলিশি নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠায় সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) শাহরীয়ার আল মামুন, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এহসান উদ্দিন চৌধুরী ও বিমানবন্দর থানার সহকারী কমিশনার প্রবাস কুমার সিংহ।

তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তারা রায়হানের মৃত্যুর জন্য বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পান। এর প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রত্যাহার করা হয় আরও তিন সদস্যকে।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা চার পুলিশ সদস্য হচ্ছেন- বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাস।

প্রত্যাহারকৃত তিন পুলিশ সদস্য হচ্ছেন- এ.এস.আই আশেক এলাহী, এ.এস.আই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেন।

এদিকে, সদ্য (সাময়ীক) বরখাস্তকৃত বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া গতকাল রোববার রাতে  বলেন, ‘রায়হানকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসাই হয়নি। ফাঁড়িতে নিয়ে আসার বিষয়টি সত্যি নয়।’

শেয়ার করুন