বাইক্কা বিলের প্রবেশ মুখে অবৈধ দখলের অভিযোগ

  • স্টাফ রিপোর্টার,মৌলভীবাজার থেকে: দেশী ও পরিযায়ী পাখি এবং মাছের জন্য জেলার ও দেশের অন্যতম বিখ্যাত অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল। জেলার শ্রীমঙ্গলের এই ঐতিহ্যবাহী হাইল হাওরের দৃষ্টি নন্দন বাইক্কা বিলের প্রবেশ মুখে দোকানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অবৈধ দখলের অভিযোগ উঠেছে। বড়গাঙ্গিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল ছুবান চৌধুরী এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায় ১১ অক্টোবর বাইক্কাবিল স্থায়ী অভয়াশ্রমের গাড়ি পার্কিং স্থান সংলগ্ন চাচার দোকান নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়। এ বিষয়ে তিনি বাইক্কাবিল পার্শবর্তী হাজিপুর গ্রামের সাইফুদ্দিন,রুপালী মিয়া,সুন্দর আলী,মহসিন মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক দখল করে গৃহনির্মাণের অভিযোগ আনেন। গৃহনির্মাণের খবরে সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে তিনি ঘটনা স্থলে গিয়ে সরকারী সম্পতিতে স্থাপনা নির্মাণের কারন জিজ্ঞাসাবাদ করলে উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে তাদের সাথে মারমুখি আচরণ ও হুমকী ধামকী প্রদান করেন। ইতিপূর্বে ওই সরকারী ভূমিতে উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ ঘর নির্মাণ করতে চাইলে সংগঠনের সদস্যগণের প্রতিবাদের মুখে স্থানীয় মুরব্বীগণের মধ্যস্থতায় তারা উপরোক্ত বেআইনি কাজ হতে বিরত থাকবে বলে অঙ্গিকার করা সত্তে¡ও তারা পূন:রায় ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। তাদের অবৈধ কার্যকলাপ বাস্তবায়িত হলে সরকারী সম্পত্তি বেহাত হওয়া সহ সংগঠনের অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা সহ পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নমূলক নানাবিধ কাজ বাধাগ্রস্থ হবে বলে তারা উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছেন। দেশে বিদেশে সুনাম অর্জনকারী এজেলার পর্যটন শিল্পে বিকাশে অন্যতম স্পট বাইক্কা বিলের অস্তিত্ব মহাহুমকির মুখে পড়বে। এছাড়াও উপরোক্ত ভূমি দস্যুদের সাথে বড়গাঙ্গিনা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সম্ভাব্য উদ্ভুত পরিস্থিতির কারনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতিসহ দাঙ্গা হাঙ্গামার সমূহ সম্ভাবনা আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমতাবস্থায় সরকারী ভূমি উদ্ধারসহ সংগঠনের চলমান কার্যক্রম স্বত:স্ফুর্ত রাখাসহ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যথাযথ আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের প্রশাসনের কাছে তারা জোর দাবি জানান। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীদের জানান শ্রীমঙ্গলের ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওখানে দুটি ম্যাপের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সার্ভেয়ার দিয়ে মাপানো হবে। এর আগ পর্যন্ত কোন প্রকার নির্মাণ না করার জন্য আপত্তি দেওয়া হয়ছে। তিনি বলেন বাইক্কাবিলের সুন্দর্য রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের সকল উদ্যেগ অব্যাহত থাকবে।
শেয়ার করুন