সিলেট কারাগারে সাধারণ কারারক্ষীদের আতংকের নাম আতাউর

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ” নামের বাণী আজ কারারক্ষী আতাউরের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ কারারক্ষীরা। কারারক্ষীদের ছুটি, ডিউটি বন্টন, আসামী জামিনসহ কারা অভ্যন্তরে ইয়াবা সহ মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ হচ্ছে তারই গড়ে তোলা কারারক্ষীদের সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায়।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী নং- ২২১৭৬ আতাউর সংস্থাপন শাখায় রয়েছেন। সংস্থাপন শাখায় দায়িত্বরত কারারক্ষী অন্যান্য সাধারণ কারারক্ষীদের ছুটি মঞ্জুরের কাজে নিয়োজিত। ওই কারারক্ষী সাধারণ কারারক্ষীদের ছুটির জন্য গুনতে কয়েক হাজার টাকার নিচে ছুটি মঞ্জুর করেন না। কারা অভ্যন্তরে মরণনেশা ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ সহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর নেপথ্যে কারারক্ষী গড়ে তোলেছেন বিশাল সিন্ডিকেট কলকাঠি। ফলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্জত মাদকদ্রব্যের আখড়ায় পরিনত হয়েছে।

কারারক্ষী আতাউর (নং- ২২১৭৬) ও তার ভাই তুহিন (নং- ০৬২৮৫)- সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে কারারক্ষীর মধ্যে তুহিন ছিল মোবাইল বুথের দায়িত্বে। সেখান থেকে কারারক্ষী আতাউর তার ভাই তুহিনকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সিসিটিভি মনিটরিংয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেন। সেখানেও গড়ে উঠে এসেছে বিভিন্ন অভিযোগ কারাগারের বিভিন্ন শাখায় নিয়োগ দিতে গিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আতাউর। এদিকে তুহিনকে আবার নিয়োগ দেওয়া হয় সংস্থাপনা শাখায়। যদি কোন সাধারণ কারারক্ষী ছুটিতে যেতে চান তাহলে ডিউটি রেজিস্ট্রারে তাদের নাম না তুলে মোটা অংকের বিনিময় ছুটি দিয়ে দেন। যদি কেহ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বিভিন্ন ধরনে হুমকি প্রদান করেন। ছুটি নিতে হলে আমার জন্য এক প্যাকেট বেনসন সিগেরেট নিয়ে আস তাহলে ছুটি দিয়ে দিব। আবার বলেন আমার সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি আমার আত্মীয় সাবেক আইজি প্রিজন সৈয়দ ইফতেখার আহমেদের এলাকার লোক। তোমরা কি আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা যান আমি মাস্টার্স পাশ।

কারারক্ষী আতাউর সম্পর্কে আরও জানা গেছে যে , সে এর আগে মৌলভীবাজার জেলা কারাগার চাকুরী করতেন। সেখান থেকে আসার পূর্বে অফিসিয়াল কম্পিউটারের সংরক্ষিত থাকা ফাইল/ ডাটাবেইজ কাজ গুলো ডিলেট করে আসেন। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে জয়েন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি অনেক আলোচিত / সমালোচিত হন। আতাউরের সে›িডকেড এর বিরুদ্ধে কেহ কথা বলেল সাধারণ কারারক্ষীদের উপর চলে নির্মম নির্যাতন। এদিকে, আতাউরের সহযোগী কারারক্ষী নং-০৬১৯৩ ফখরুলকে বদলী করার পরও সে বদলী না হয়ে তাকে আরো কারাগারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে সে লাইস বা ডিউটি বন্টনের পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে করে আতাউর ফখরুলকে কারাগারের ভিতরে মোবাইল ঢুকায়ে কয়েদীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিয়ে থাকেন। যাহা কিনা কারাগারের ভিতরে মোবাইল প্রবেশ করা নিষিদ্ধ।

গোপনসুত্রে জানা যায়, কারারক্ষী ফখরুলকে দিয়ে আতাউর জেলখানার কয়েদিদের জন্য মাদকদ্রব্যের ইয়াবা, গাজা, মোবাইলসহ সিগেরেট সাপ্লাই দিয়ে থাকে। এতে করে কয়েদিদের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের হাদিয়া।

কারারক্ষী আতাউরের বিরুদ্ধে এর আগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে সে আগের চেয়ে অনেক ভয়ংকররুপ ধারণ করে সাধারণ কারারক্ষীদের জিম্মি করে রেখেছে।

শেয়ার করুন