শহিদুলকে ফেরত পেতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মোঃ শান্ত খান ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে শহিদুল ইসলাম নামের এক মুদি ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। তুলে নেওয়ার চার দিন পার হলেও কোনো হদিস না পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আশুলিয়ার নয়াপাড়ায় ডেকো গার্মেন্টস সংলগ্ন তার দোকানের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন নিখোঁজের পরিবার। এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে নিজ দোকান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একটি সাদা রং এর হাইচ গাড়ীতে নারীসহ সাত আট জন সাদা পোশাকের লোক তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের। নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম শরিয়তপুর জেলার ঘোসাইর হাট থানার ইকরাকান্দি গ্রামের শাহ আলম দেওয়ানের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার নয়াপাড়া এলাকায় মুসলিম উদ্দিন মার্কেটের মুদি দোকানের পাশাপাশি বিকাশ ও সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসা করতো। সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শহিদুল ইসলামের মামাতো ভাই রিয়াজউদ্দিন জানান, প্রতিদিনের মতো আশুলিয়ার নয়াপাড়া মোসলেম উদ্দিন মার্কেটে তার মুদি দোকানে বসে বেচা বিক্রি করছিল শহীদুল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক দশটার দিকে একটি পুলিশ লেখা এক মাইক্রোবাসে করে ৭-৮ জন নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে প্রথমে তার দোকানে তল্লাশি চালায় এবং পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গাড়ীতে করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় থানায় গিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ করেন নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম এর মামাতো ভাই রিয়াজ। তাকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম এর বাবা শাহ আলম দেওয়ান জানান, তার ছেলে যদি কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে আইন তার বিচার করবে। কিন্তু আমরা তার কোনো খবর পাচ্ছি না। আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনে এ এক মেয়ে সাদিয়া (১১) তার নিখোঁজ বাবাকে ফেরত পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবী জানান এবং অবুঝ কন্যা বাবার জন্য কান্না করে দু-চোখ দিয়ে পানি পড়ে আর বলে আমার বাবাকে ফেরত চাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ শহিদুল ইসলাম এর স্ত্রী তানিয়া, তিন বছরের শিশু পুত্র আব্দুর রহমান, ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম। এসময় স্ত্রী তার স্বামীকে ভাই তার ভাইকে ফেরত চান এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শেয়ার করুন