চরফ্যাসনে লঞ্চ মালিকদের রোটেশন সিন্ডিকেটে যাত্রীরা জিম্মি

মোঃফাহিম , চরফ্যাসন (ভোলা)প্রতিনিধি:

ভোলার চরফ্যাসনে ঢাকা থেকে বেতুয়া ঘাটে লঞ্চ মালিকদের রোটেশন সিন্ডিকেটে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়ে অন্য পথে চলাচল করছে যাত্রীরা। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ইজারাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। যুগের পর যুগ চরফ্যাসন বাসীর প্রাণের দাবি ছিল ঢাকা বেতুয়া নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচলের। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে তৎকালীন সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম প্রথম একটি লঞ্চ দিয়ে এই রুটটি চালু করলেও দুর্ভাগ্যবশত লঞ্চটি স্থায়িত্ব হয়েছে মাত্র ৭ দিন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব (এমপি) চরফ্যাসন বাসীর প্রাণের দাবি বেতুয়া-ঢাকা রুটটি জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে একাধিক কোম্পানির লঞ্চ চালু করে চরফ্যাসন বাসির প্রাণের দাবি পূরণ করেন। সেই থেকেই বেতুয়া ঘাটটি ছিল জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয়। যাত্রীরা জানায়, বেতুয়া থেকে ঢাকায় বিভিন্ন কোম্পানির তিন-চারটি লঞ্চ নিয়মিত যাতায়াত করতেন কিন্তু সম্প্রতি লঞ্চ মালিকরা বোটেশন সিন্ডিকেট করে দৈনিক একটি লঞ্চ বেতুয়া থেকে ঢাকায় ছেড়ে যায়। এবং এক মালিকের লঞ্চ হওয়ায় যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ খারাপ আচরণ করেন। লঞ্চ মালিকদের রোটেশন সিন্ডিকেটে বেতুয়া ঘাটটি এখন প্রায় যাত্রী শুন্য। ঢাকাগামী যাত্রীরা এখন অন্য রুট হিসেবে ঘোষেহাট, লালমোহন, ভোলা, লঞ্চ ঘাটে ঢাকায় যাতায়াত করছেন। এতে বেকার হচ্ছেন বেতুয়া ঘাটের শ্রমিকরা, লোকসান গুনছেন ঘাট ইজারাদার, নিভে যাচ্ছে বেতুয়া ঘাটের আলোর মুখ। জানাযায়, তৎকালীন ঢাকা টু বেতুয়া নৌরুটে লঞ্চ চলাচল চালু হলে পর্যায়ক্রমে এই রুটে তিনটি লঞ্চ কোম্পানি যুক্ত হন। সরকারি অনুমোদন অনুযায়ী প্রত্যেক কোম্পানির একটি করে লঞ্চ দৈনিক যাতায়াতের কথা থাকলেও রোটেশন অনুযায়ী প্রথমে তিন কোম্পানির দৈনিক ৩টি লঞ্চ নিয়মিত যাতায়াত করতেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ৩টি লঞ্চের পরিবর্তে এক মালিকের দৈনিক ২টি লঞ্চ যাতায়াত করেন, বর্তমানে ২টির পরিবর্তে ১টি লঞ্চ যাতায়াত করে। আবার পরের দিন অন্য কোম্পানির একটি লঞ্চ দিয়ে মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাত্রীদের হয়বানি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, হাতে বহনকারী ব্যাগ বা বস্তা থেকেও তারা জুলুম করে বেশি ভাড়া আদায় করছেন, যাত্রী কবির হোসেন জানান, একসময় প্রতিযোগিতা করে লঞ্চ চালিয়ে ঢাকা ঘাটে যেত এসব লঞ্চ। যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌছাতে পারতো নিজ কর্মস্থলে। কিন্তু এখন আর ঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌছানো যায়না বলেও অভিযোগ যাত্রীদের। বেতুয়া ঘাটের যাত্রী মো. খাইরুল বলেন ৩টি লঞ্চের পরিবর্তে ১টি লঞ্চ চলার কারণে জুলুম অত্যাচার তো আছেই, তারপরে আমরা কেবিন চাইলে কেবিন পাচ্ছি না এজন্য অন্য রুট দিয়ে যেতে হয়। তিনি আরো বলেন লঞ্চ কোম্পানির যদি না পোষায় তারা সরকার থেকে এক রুটে এতগুলো কোম্পানি রোটেশন কেন নিলো, আজ আমাদেরকে জিম্মি করে তারা ব্যবসা করছে। বেতুয়া ঘাটের চায়ের দোকানদার ফজলুর রহমান জানান, আগে এই ঘাটে অনেক লঞ্চ যাত্রীহতো আমরা তাদের কাছে চা বিস্কুট বিক্রি করে পরিবার- পরিজন নিয়ে সংসার চালাতাম এখন আগের চাইতে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। ঘাট লেবার শ্রমিক সর্দার ইছহাক এই প্রতিবেদককে বলেন, ভাই কইয়েন না বড় বেকাদায় আছি প্রতিদিন ৩-৪টা লঞ্চ ছারতো আমরা যাত্রীদের মালামাল টেনে দুই চারটা পয়সা কামাই করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে সংসার চালাতাম, এহন দৈনিক ১টা লঞ্চ ছাড়ে আগের মত কামাই হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লঞ্চের সুপারভাইজার বলেন এভাবে লঞ্চ চালিয়ে মালিকারা লাভবান হয়,কিন্তু লঞ্চ স্টাফদের অনেক লোকসান হয়, দুই তিন দিন পর পর একটা ট্রিপ পাই, আমরা কি করব? মালিকরা যেভাবে সিদ্ধান্ত দেয় আমরা সেভাবেই তো তাদের কথা মেনে লঞ্চ চালাতে হয়। এবিষয়ে কর্ণফুলী লঞ্চ মালিক মো. সালাউদ্দিন মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে এরুটে যাত্রী কিছুটা কম এজন্য একটি লঞ্চ চলে এখন। যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সকল লঞ্চ মালিকরা খুব শিগগিরই আলোচনা করে চলমান সমস্যা সমাধান করবো। বর্তমানে ইউএনও’র দায়িত্বে থাকা চরফ্যাসন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও ম্যাজিস্ট্রেট ছালেক মূহিদ জানান, কিছুদিন আগে আমিও লঞ্চে গিয়ে কেবিন পাইনি। আমাকেও অনেক কষ্ট করে ঢাকায় যেতে হয়েছে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিআইডব্লিউটিএ এর সাথে যোগাযোগ করে সমস্যাটি নিরেশনের চেষ্টা করবো ।

শেয়ার করুন