সিলেটী বিরইন চালের ইতিহাস

অলিউদ্দিন শামীম, জালালাবাদবার্তা.কমঃ

লাল-শাদা আঠালো ধরণের সুগন্ধি ‘বিরইন চাল’ শুধু সিলেট অঞ্চলে হয়, তাই এক অবিসংবাদিত ট্রেডমার্ক সিলেটী সেখানকার! হরেক রকম চালের ভিড়ে নয়, একেবারেই আলাদা জাতের এই চাল দিয়ে মহা মজাদার সব রান্না করা সিলেট অঞ্চলে যুগ-যুগের ইতিহাস। কিছুদিন পর-পর বিরইন চালের রেসিপি না হলে অপূর্ণ থেকে যায় সিলেটে বসবাস!অপূর্ব সুবাস আর অতুলনীয় স্বাদ মিলে এই চাল দিয়ে যাই-ই বানানো হোক, ঘ্রাণে সুগন্ধে ভরপুর হয়ে যায় খাবার টেবিল।

হালকা ভাপে রান্না বিরইন ভাত মানিয়ে যায় মাছ-মাংসের সাথে, দুধ-ডিমের সঙ্গে খিচুড়ি-পায়েস তৈরিতে, এমনকি ডাল-সবজি দিয়ে খেতে!

আমাদের ছোটবেলায় প্রিয় ছিল নারকেলের কুচি দিয়ে বিরইন চালের মিষ্টি ক্ষীর। কি যে অমৃত সেই ক্ষীর-পায়েস। অবশ্যই দেশী গাইয়ের দুধ ঘন জ্বাল দিয়ে ঢেলে দেওয়া হতো সেখানে। ক্ষীরের আস্বাদ আনেকটা মায়ের দুধের মতোন রুচি যোগাতো কচি মুখে।

খুবই শক্তিশালী উপাদান বিরইন ভাত। টক-ঝাল-মিষ্টি যা বানিয়ে খান, খেতে পারবেন অল্পই। মাত্র একপ্লেট বিরইন আয়ত্ত করে ফেলা বেশ কঠিন!

মাংস বা ডিম ভুনা কিংবা কোরমা দিয়ে হালকা একপ্লেট বিরইন ভাত খেলে মনে হবে পুরো একদিনের পেটচুক্তি হয়ে গেছে। লাল বিরইন খেতে হবে দুধ দিয়ে, তাহলে অনেকদিন স্মৃতি হয়ে থাকবে সেই খাওয়া!

মৌসুম বছরে একবার হওয়ায় ফলন কম আর দাম আনেকটা বেশি বিরইনের। ১০০, ১৫০ টাকায় ওঠে প্রতি কেজির দাম।

দাম যাই-ই হোক, সিলেটে গেলে যেখানে পাই বিরইন চাল আর সাতকরা লেবু সংগ্রহ করে নিয়ে আসা আমার এক ভীষণ লক্ষ্য। বিরইন ভাতের সঙ্গে সাতকরা-গোশতের ভুনা একবেলা খেতে পারলেই জীবনটাকে নিজের কাছে মনে হতে থাকে-সার্থক, সফল!

শেয়ার করুন