কানাডার নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় আসছে লিবারেল!

ইমাম উদ্দিন, টরন্টো, কানাডাঃ

আগামী ২১ শে অক্টোবর, কানাডার ফেডারেল নির্বাচন। গভর্ণর জেনারেল জুলি পায়েত প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পরামর্শে গত ১১ ই সেপ্টেম্বর ৪২ তম সংসদ বিলুপ্ত করেন। আর ৪৩তম সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে লিবারেলের জয়ের বিষয়টা ততই স্পষ্ট হচ্ছে।

বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজে এবং তাঁর দল এগিয়ে। অ্যান্ড্রু শায়ের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি এবং জগমিত সিংয়ের নেতৃত্বে নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাথে লিবারেলের ব্যবধানটা ক্রমশই বাড়ছে। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর ন্যানোস জরিপে লিবারেল জয়ের সম্ভাবনা ৩৭%, কনজারভেটিভ ৩৩%, এনডিপি ১৫% এবং গ্রীণ ৮%।

সিবিসি’র নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এরিখ গ্রেনিয়ার এর মতে যদিও ব্যবধানটি তাৎর্যপূর্ণ নয়, তবে ফেব্রুয়ারির পরে প্রথমবারের মতো জাতীয় পোলিং গড়ে লিবারেলরা কনজারভেটিভদের চেয়ে এগিয়ে গেছে। তারা আসন প্রত্যাশনেও এগিয়ে আছেন।

উল্লেখ্য, কানাডা একটি ফেডারেশন যাতে সংসদীয় গণতন্ত্রভিত্তিক সরকারব্যবস্থা এবং একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রচলিত। কানাডার সরকার দুই ভাগে বিভক্ত। কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকার। প্রশাসনিক অঞ্চলগুলির তুলনায় প্রদেশগুলিতে স্বায়ত্তশাসনের পরিমাণ বেশি। কানাডার বর্তমান সংবিধান ১৯৮২ সালে রচিত হয়। এই সংবিধানে পূর্বের সাংবিধানিক আদেশগুলি একটিমাত্র কাঠামোয় একত্রিত করা হয় এবং এতে অধিকার ও স্বাধীনতার উপর একটি চার্টার যোগ করা হয়। এই সংবিধানেই প্রথম কানাডার নিজস্ব স্থানীয় সরকারকে তাঁর সংবিধানের উপর পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়। পূর্বে কানাডা ১৮৬৭ সালে প্রণীত ব্রিটিশ উত্তর আমেরিকা অধ্যাদেশবলে পরিচালিত হত এবং এতে ও এর পরে প্রণীত আইনসমূহে ব্রিটিশ সরকারকে কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল।

নির্বাচিনী কর্মকর্তা বাদে ১৮ বা তার বেশি বয়সী সমস্ত কানাডীয় নাগরিক ভোট দিতে পারেন। জেলে বা অন্যত্র শাস্তিপ্রাপ্ত বাদে সকল যোগ্য ভোটার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। কানাডার নির্বাচনী এলাকার নাম রাইডিং। এক রাইডিংয়ের অধিবাসী অন্যত্র ভোট দিতে পারেন না। কানাডাতে ভোটার উপস্থিতির হার উচ্চ। প্রায় ৭০% সাধারণত ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

আর আগামী ২১ অক্টোবরের নির্বাচনে লিবারেল আবারও ক্ষমতায় আসছে, একথা এখন বলা য়ায়।

ইমাম উদ্দিন, টরন্টো, ৬ অক্টোবর, ২০১৯

শেয়ার করুন