মৌলভীবাজার প্রতিনিধি.

  • মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক ব্যবসায়ীকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠৈছে শ্রীমঙ্গল থানার দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। তারা হলেন, এসআই আলমগীর হোসেন ও এসআই আনোয়ারুল ইসলাম। এঘটনার পর থেকে পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার মিয়া।২ মে রবিবার দুপুরে ওই দুই এসআইয়ের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ভুক্তভুগি ব্যবসায়ী । তিনি অনুলিপি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী,স্বরাষ্ট্র সচিব এবং পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে কপি প্রেরণ করেছেন।

    গত শনিবার (১ মে) বেলা দেড়টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডে শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন বিপরীত একটি মার্কেটে আনোয়ার মেটাল এন্ড ষ্ট্রীল ওয়ার্কশপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এঘটনা ঘটে।
    স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়া জানান, শ্রীমঙ্গল থানার দুই এসআই একজন হলেন আলমগীর হোসেন আর আরেকজন হলেন এসআই আনোয়ারুল ইসলাম আমার ব্যবসা প্রতিষ্টানে গিয়ে কোন কিছু না বলেই তল্লাশি চালায়।
    কিন্তু ওই সময় আমি দোকানে ছিলাম না। বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। আর দোকানের দুই কর্মচারী বারান্দায় কাজ করছিলেন। বেশ কিছু সময় তল্লাশি চালিয়ে কিছু পায় নাই। এক পর্যায়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার পর দোকানে ভেতরে ডামের নিচ থেকে ৫টি ছোট ইকজেকমনের বোতল, ইনজেকশন সিরিঞ্জ, ৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। পরে আমি শুনতে পাই আমার নামে আমার ১৫পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা হয়েছে।
    দোকান কর্মচারী সুরুজ মিয়া বলেন, পুরানো দুইটি সিরিঞ্জ,৬টি ইকজেকশনের মতো বোতল এবং ৪ পিস ইয়াবা চিপাত থেকে বাহির করছে পুলিশ। আমরা তখন বাহিরে কাজ করি। পুলিশের এসব কর্মকান্ড দেখে আমরা হতবিহবল হয়ে পড়ি। পুলিশ ওই সময় আশ-পাশের ব্যবসায়ীদের ডেকে বলে যে দোকানদার আনোয়ার মিয়ার দোকানে এসব পাওয়া গেছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা।
    ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়া আরও জানান,আমার কাছে ফোন আসে পুলিশ দোকানে তল্লাশি করতেছে। আমি তাড়াহুড়া করে মার্কেটে আসি। ওই সময় আশপাশের দোকানদার বলে যে আমি সরে যেতে। কারণ পুলিশ হেতুক আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করবে বলে মার্কেটের সব ব্যবসায়ীরা চলে যেতে বলে। আমি তাদের কথামতো সেখান থেকে চলে যাই। এরপর পুলিশ আমার বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং আসবাবপত্র তছনছ করে,তাতে কিছু পায়নি। উল্টো আমার স্ত্রীকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকিও দেয় এবং রাতে ১২টার আমার সাথে দেখা না করলে মামলা দিয়ে ফাঁসাবো।
    ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়া আরও জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকিয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা প্রভাবশালী জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান রিপনের সঙ্গে শহরের শান্তিবাগ এলাকায় একটি মার্কেটের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এবং মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে সিআর ৫৮/২০২০ ইং একটি মামলা মৌলভীবাজার আদালতে বিচারাধীন আছে। আমাকে ঘায়েল করার জন্য ইতোমধ্যে অনেকবার বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানিও করে আসছে।

    শ্রীমঙ্গল থানার অভিযুক্ত এসআই আলমগীর হোসেন বলেন ‘আমাদেরকে সোর্স ইনফর্ম করেছে সেই প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়ার দোকানে অভিযান চালিয়েছি। কারণ আমি ম্যান অব কিশোরগঞ্জ। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’ এই কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

  • শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক বলেন,বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল থানায় এসআই আলমগীর হোসেন যোগদান করার পর থেকে নানা কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ রাবার, বালু, জুয়া,মাদক,পতিতা, হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের কাছ চাঁদা আদায় এবং বিভিন্ন নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
শেয়ার করুন

Leave A Reply