চা শ্রমিকরাও ঘর পাবে,, প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্ট,এম.মুসলিম চৌধুরী:
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদর সাথে কথা বলেছেন। মজুরি বৃদ্ধি করায় আনন্দে আত্মহারা চা শ্রমিকেরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজারসহ দেশের ৪টি জেলার চা শ্রমিকদের কথা শুনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখলা চা বাগানের মাঠ থেকে চা শ্রমিকরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হন। এসময় মির্তিঙ্গা চা বাগানের নারী চা শ্রমিক রিতা পাইনকা প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের দাওয়াত দিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে দেশে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি আমাদের চা শ্রমিকদের দেশের নাগরিক বারিয়ে গেছেন, আপনি ছাড়া আমাদের দুঃখের কথা শোনার আর কেউ নেই। আপনি আমাদের মা, আমাদের মজুরি বৃদ্ধি করায় আমরা আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। জাতির পিতা আমাদের ভোটের অধিকার দিয়ে গেছেন। আপনি আমাদের মজুরি বৃদ্ধি করেছেন। চা শ্রমিকরা জাতির পিতা ও আপনার জন্য পুজা প্রার্থনা করেন। আপরার জন্য চা শ্রমিকরা সবসময় দোয়া করেন। এসময় চা শ্রকিক বলেন, আমাদের জন্য সব করেছেন মা, এখন আমাদের আরেকটা দাবি সেটা হল আমরা যেনো পেট ভরে ভাত খেতে পারি সে ব্যবস্থা করে দিবেন।
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেনন, চা শ্রমিকদের বৃটিশরা এদেশে নিয়ে এসেছিল। তাদেরকে অনেক অমানষিক অত্যাচার করত খাটাত। পরে জাতির পিতা বঙ্গব্ধু শেখ মুজিব চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হন। চা শ্রমিকদের নাগরিকত্ব দিয়ছেন। কিন্তু তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। প্রধারমন্ত্রী বলেন, দেশে বেধেঁ হিজরাসহ ভাসমানদের আমরা ঘর করে দিয়েছি। চা শ্রমিকরা বাসস্থান পাবে।
আমরা চা শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করব। যারা শ্রম দেয় কষ্ট করে আমরা তাদের কথা ভাবা দরকার। আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান চা শ্রমিকসহ সকল শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন। বঙ্গব্ধুর বাংলাদেশে মানুষ কষ্ট করবে তা হয়না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার করে দিয়েছেন। তার মেয়ে হিসেবে আমি প্রতত্যেক শ্রমিকের জন্য কাজ করছি। প্রত্যাক শ্রমিক তাদের নেজ্য অধিকার পাবে। তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা যাতে উন্নত যজীবন যাপন করেন সে ব্যবস্থা আমি রবো। চা শ্রেিকর পরিবার ও শিশুরা যাতে পুষ্টিকর খাবার খেকে পাবে সে ব্যবস্থা করা হবে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান এর পরিচালনায় এসময় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, মেওলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ সহ আওয়অমীলীগ নেতৃবৃন্দ ও চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসন উপজেলা প্রশাসনের কমর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন চা বাগান থেকে আগত চা শ্রমিরা উপস্থিত ছিণে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৯ দিন ধর্মঘট পালনের পর ২৭ গত আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাগান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বাড়ান। এতে চা শিল্পের অচলাবস্থা কাটে। ১৭০ টাকা মজুরিতে ২৮ আগস্ট থেকে কাজে ফেরেন চা শ্রমিকরা। তবে ধর্মঘটের শুরু থেকেই চা শ্রমিকরা সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি সরাসরি নির্দেশ দিলেই কাজে ফিরবেন বলেও জানিয়েছিলেন আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা।

 

শেয়ার করুন